ধাক্কাধাক্কির জেরে জাবিতে সংঘর্ষ, আহত ৬৫

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৯, ০২:০১

মিষ্টির দোকানে ধাক্কাধাক্কির জেরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ অন্তত ৬৫ জন আহত হয়েছে।

আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ও সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৩ জন শিক্ষার্থী ও একজন পুলিশ এনামে ভর্তি রাখা হয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় দুপুর দুইটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,  দুপুর ২টার দিকে উঁচু বটতলার বেলালের দোকানে মিষ্টি খেতে যায় বঙ্গবন্ধু হলের ৪৬ তম ব্যাচের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের দ্বীপ বিশ্বাস ও  বাংলা বিভাগের আলিফ হাসান দীপু। এ সময় মওলানা ভাসানী হলের ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৌরভ কাপালীর সঙ্গে ধাক্কা লাগে দ্বীপের। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে দ্বীপ ও দীপুকে চড়-থাপ্পড় মারে সৌরভ।  খবর পেয়ে বঙ্গবন্ধু হলের শিক্ষার্থীরা লাঠি, চাপাতি, রড, রামদা সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বটতলা এলাকায় আসে। এ খবর শুনে ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরা পাল্টা প্রস্তুতি নেয়। উভয় গ্রুপ বটতলায় মিলিত হলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এতে উভয় হলের সিনিয়র ছাত্রলীগ নেতারা নেতৃত্ব দেয়। সংঘর্ষ শুরু হলে প্রক্টরিয়াল টিম ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হন। কিন্তু তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ব্যর্থ হন। ফলে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। সংঘর্ষ চলাকালে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করলেও তারা ব্যর্থ হন।

আরও পড়ুন: টানা বর্ষণে রোহিঙ্গা শিবিরে পাহাড় ধসের আতঙ্ক

সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। বিকেল ৪টার দিকে আশুলিয়া, সাভার মডেল থানা, ধামরাই ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে তারা বটতলায় উপস্থিত হয়ে ভাসানী হলের দিকে অন্তত ৪টি টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। আর বঙ্গবন্ধু হলের শিক্ষার্থীদের দিকে ২টি ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। টিয়ারশেল নিক্ষেপের সময় শিক্ষার্থীদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে আশুলিয়া থানার ওসি মো. রেজাউল হক দীপু পায়ে আঘাত হন।  

এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ছোড়া ইটের আঘাতে আহত হন সহকারি প্রক্টর মহিবুর রৌফ শৈবাল ও বঙ্গবন্ধু হলের ওয়ার্ডেন মেহেদী ইকবাল। সংঘর্ষের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করায় দৈনিক সংবাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জোবায়ের কামালকে মারধর করা হয়। এছাড়া ঘটনার সংবাদ ও ছবি সংগ্রহকালে দৈনিক ভোরের কাগজের রিজু মোল্লা ও বার্তা২৪.কমের রুদ্র আজাদকে লাঞ্ছিত করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক লিখন চন্দ্র বালা বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৬৫জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আমরা হলে ফিরিয়ে দিয়েছি। যে কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’

পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে আশুলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) জাবেদ মাসুদ বলেন ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ফোন পেয়ে আমরা অনতিবিলম্বে ফোর্স নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করি। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।’

শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, ‘সংঘর্ষে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সংগঠন থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনকেও বলবো জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’

ইত্তেফাক/এমআরএম