সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

যুক্তরাজ্যের কোর্ট অব আপিলের রায়

অন্যায্য মালিকানা দাবির মামলায় জিতল ‘শেফ অনলাইন’   

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭:০৯

যুক্তরাজ্যে গৌরবের সঙ্গে ‘শেফ অনলাইন’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করা ‘লে শেফ পিএলসি’ দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা একটি চ্যালেঞ্জিং মামলায় চূড়ান্তভাবে জয়লাভ করেছে। একই মামলায় রেস্টুরেন্ট খাতের জনপ্রিয় এওয়ার্ডস শো ‘আরতা’র লগো ও ট্রফির নকশার মেধাস্বত্ব (ইন্টেল্যাকচ্যুয়াল প্রোপার্টি রাইটস) নিয়ে তোলা অন্যায্য দাবিটিও খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যের আপিল আদালতের (কোর্ট অব আপিল) সিদ্ধান্তে ইতিপূর্বে দেওয়া হাইকোর্টের রায়কে বহাল রাখায় ‘লে শেফ পিএলসি’র শেয়ার হস্তান্তর এবং ‘আরতা’র লগো ও ট্রাফি নকশার মেধাস্বত্ব নিয়ে তোলা অন্যায্য অভিযোগের অবসান ঘটলো।

প্রসঙ্গত, ‘লে শেফ পিএলসি’ অনলাইন অর্ডারিং প্ল্যাটফর্ম ‘শেফ অনলাইন’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করে। শেফ অনলাইন-এর সহযোগী হিসেবে রেস্টুরেন্ট ও টেকওয়ে খাতের সেরাদের নিয়ে জমজমাট এওয়ার্ডস অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আরতা এওয়ার্ডস লিমিটেড। ‘এশিয়ান রেস্টুরেন্টস অ্যান্ড টেকওয়ে এওয়ার্ডস’ নামের অনুষ্ঠানটি সংক্ষেপে ‘এআরটিএ বা আরতা’ নামে পরিচিত। লে শেফ পিএলসি ও আরতার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিলেতে ব্যবসায়ী কমিটির পরিচিত মুখ মোহাম্মদ আব্দুল মুনিম (সালিক)।
 
২০১৬ সালে ‘গভর্নমেন্ট এন্টারপ্রাইজ ইনভেস্টমেন্ট স্কিম’ (ইআইএস) ‘লে শেফ পিএলসি’র বাজারমূল্য ১০ মিলিয়ন পাউন্ড বলে মূল্যায়ন করে। তারপর থেকে শেফ অনলাইন এবং আরতা—উভয় প্রতিষ্ঠান সাফল্যের সঙ্গে সমৃদ্ধির পথে এগিয়েছে।   
   
হাজিফুর রহমান রিমন এবং রিফাত আহমেদ নামে দুজন ব্যক্তি ২০২০ সালে লে শেফ পিএলসি এবং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুনিমের বিরুদ্ধে বেআইনি শেয়ার স্থানান্তরের অভিযোগ এনে আদালতে যান। ‘আরতা’র অফিসিয়াল লগো ও ট্রফির নকশার মেধাস্বত্ব দাবি করে আরতা এওয়ার্ডস লিমিটেডের বিরুদ্ধে ভিন্ন একটি অভিযোগও করেন হাফিজুর রহমান। সবকটি অভিযোগের একসঙ্গে শুনানী করে যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টের ‘বিজনেস অ্যান্ড প্রোপার্টি’ বিভাগের ‘ইন্টেলেকচ্যুাল প্রোপার্টি লিস্ট’ বিভাগ। হাইকোর্টের বিচারক জার্ম্যান কেসির নেতৃত্বে ২০২০ সালের ২৪ থেকে ২৭ অক্টবর চার দিনব্যাপী এ শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর ঘোষিত রায়ে হাইকোর্টের বিচারক জার্ম্যান কেসি উভয় অভিযোগাকারী হাফিজুর রহমান এবং রিফাত আহমেদের আবেদন খারিজ করে দেন। একইসঙ্গে লে শেফ পিএলসি ও এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মুনিমের পক্ষে রায় দেন। একই রায়ে হাফিজুর রহমান কর্তৃক আরতা এওয়ার্ডসের লগো ও ট্রফি নকশার মেধাস্বত্ব দাবিটিও খারিজ করে দেন আদালত। 

কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরের বৈধতা এবং মেধাস্বত্ব দাবির বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে কোর্ট অব আপিলে আবেদন করেন হাফিজুর রহমান। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে আপিল আদালত মেধাস্বত্ব দাবির বিষয়ে আপিলের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দেন। এর ফলে তখনই চূড়ান্ত হয়ে যায় আরতা এওয়ার্ডসের লোগো বা ট্রফি নকশার উপর হাফিজুর রহমানের কোনো স্বত্বাধিকার বা কপিরাইট নাই। 

ছবি: সংগ্রহীত

আর কোম্পানির শেয়ার স্থানান্তরের বৈধতা নিয়ে আপিল গ্রহণ করায় এ নিয়ে গত ৩১ জানুয়ারি আপিল আদালতে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। আপিল আদালতের তিন বিচারক—লেডি জাস্টিস কিং, লর্ড জাস্টিস বার্স এবং লেডি জাস্টিস ফকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আপিলের শুনানী করে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আপিল আদালতের রায়ে তিন বিচারক সর্বসম্মতিক্রমে হাইকোর্টের দেওয়া মূল রায়কে বহাল রাখেন এবং আপিলটি খারিজ করে দেন। এরমধ্যে দিয়ে দীর্ঘ চলমান এই আইনী লড়াইয়ে লে শেফ পিএলসি, এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মুনিম এবং আরতা এওয়ার্ডস লিমিটেড চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করলো।

কোর্ট অব আপিলের রায়ে লেডি জাস্টিস ফক বলেন, ‘জনাব রহমানের কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তর নিয়ে হাইকোর্টের বিচারক জার্ম্যান কেসি যেসব প্রমাণ সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সেই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমি সন্তুষ্ট।’
    
হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আপিল আদালতের দেওয়া সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় লে শেফ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুনিম উভয় বিচারিক ব্যবস্থায় মামলাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচিত হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সন্তুষ্ট যে আপিল আদালত মূল রায়কে বহাল রেখেছে, শেয়ার স্থানান্তরের বৈধতা নিশ্চিত করেছে। এই রায় ব্যবসায়িক চুক্তি এবং সততার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।’ 

ইত্তেফাক/ডিডি