উখিয়ায় ফসলি জমিতে ভবন নির্মাণের হিড়িক

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৯, ২১:৪৩

উখিয়ার মরিচ্যা লালব্রিজ থেকে পালংখালী রাস্তার দুপাশে অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাড়া বাসা তৈরির হিড়িক পড়েছে। জমির মালিকরা প্রশাসনের কোনো অনুমতি ছাড়াই এসব তিন ফসলি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ভবন নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা উখিয়ায় আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে ভাড়া বাসার কদর বেড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।

সূত্রে জানা গেছে, ফসলি জমির উপর যদি স্থাপনা নির্মাণ করতে হয় তাহলে কালেক্টরের অনুমতি অত্যাবশ্যকীয়। প্রতিনিয়ত কৃষি জমির শ্রেণি পরিবর্তনপূর্বক অসংখ্য ভবন নির্মাণ করায় উখিয়ার ফসলি জমির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। 

ফসলি জমির উপর ভাড়া বাসা তৈরি করে লাভবান হওয়া যাচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ নূর নামে একজন কৃষক জানালেন, তার বসত ভিটা সংলগ্ন ৪০ শতক জমির উপর একটি চার ফ্লাটের দ্বিতল ভবন তৈরি করে মাসে ৪০ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করছেন। অথচ একই জমিতে ধান চাষ করলে তিন/চার মাসে সর্বসাকুল্য ১২ হাজার টাকার ধান পাওয়া যাবে।

সরেজমিনে বেশ কয়েকটি ভবন নির্মাণের কাজ চলছে এমন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাহাড় কাটা মাটি দিয়ে ফসলি জমি ভরাট করে শ্রেণি পরিবর্তন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জমির একজন মালিক জানান, পাহাড় কাটা মাটি ক্রয় করে জমি ভরাট করা হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সালাউদ্দিন জানান, উখিয়ায় যতগুলো ফসলি জমি ভরাট করা হয়েছে সবগুলোর মাটি পাহাড় কেটে সংগ্রহ করা হয়েছে। তা না হলে ফসলি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ ছিল না। এজন্য বন বিভাগের উদাসীনতাকে দায়ী করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, গত ২০ মাসে উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে প্রায় শতাধিক একরের মতো তিন ফসলি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ভাড়া বাসা তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি উখিয়া হাইস্কুল চত্বরে অনুষ্ঠিত মাদক বিরোধী সমাবেশে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বলেন, তিনি উখিয়া আসার পথে দেখেছেন রাস্তার দুপাশে নির্বিচারে ফসলি জমি ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। তারা সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করছে।