রোবটিক্সের দুনিয়ায় দুই বন্ধুর পথচলা

রাজধানীর সানিডেল স্কুলের ‘এ’ লেভেলের ছাত্র তাফসীর তাহরীম ও কাজী মোস্তাহিদ লাবিব। দুজনের প্রবল আগ্রহ রোবটিক্স নিয়ে। গত কয়েক বছরে তারা একসঙ্গে অংশ নিয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বেশ কিছু রোবটিক প্রতিযোগিতায় এবং বিশ্বমঞ্চে লাল সবুজের হয়ে অর্জন করেছে নানা সম্মাননা। তাদের সে পথচলার গল্প জানাচ্ছেন শাকিরুল আলম শাকিল

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৪, ০৩:৪৮

তাফসীর ও লাবিবের পরিচয়টা স্কুলের সূত্রে হলেও দুজনের বাসা পাশাপাশি। তাই বন্ধুত্বের রসায়নটাও একটু জোরালো। তবে সম্পর্কটা আরো দৃঢ় হয়ে উঠে দুজনের শখের জায়গা থেকে। ছোটবেলা থেকেই তাফসীরের ইলেকট্রিক ডিভাইস বিশেষত রিমোর্ট কন্ট্রোল খেলনার কার্যপ্রণালী নিয়ে আগ্রহ। অনেক সময় আস্ত খেলনাটিই ভেঙে ফেলতো খুঁটিনাটি বিষয়ে কৌতূহল নিবারণের জন্য। ২০১৮ সালে ক্লাস সিক্সে পড়ার সময়ে তার পরিচয় হয় লাবিবের সঙ্গে। তখন তারা চিটাগাং গ্রামার স্কুলের ছাত্র। লাবিবও ঠিক তার মতোই কৌতূহলী।

একদিন দুজনে একটি রোবটিক কর্মশালার সন্ধান পায়। সেখানে কয়েকদিন যাওয়া আসার পরে নিজেদেরকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে শুরু করে দুই বন্ধু। ছোটবেলার সব কৌতূহলের উত্তর যেন একে একে মিলে যাচ্ছে। আর নিজেদের শখ-ভালোলাগা জন্মাচ্ছে রোবটিক্সকে ঘিরে। সেই থেকে দুজনের নতুন যাত্রা শুরু। প্রথমেই ইউটিউবের মাধ্যমে রোবটিক্সের কোর বিষয় গুলো—প্রোগ্রামিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ইলেকট্রিক সার্কিট, ডিজাইনিং ইত্যাদিতে বিশারদ হয়ে উঠেন। এরপর ছোট পর্যায়ের কিছু রোবট তৈরি করে নিজেরা।

সেবছরই অংশ নেয় ন্যাশন্যাল রোবট অলিম্পিয়াডে। ক্রিয়েটিভ ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক নিয়ে লড়তে যায় ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াডে। সেখান থেকেও ক্রিয়েটিভ ক্যাটাগরি থেকে ছিনিয়ে আনে স্বর্ণ পদক। সঙ্গে একটি টেকনিক্যাল অ্যাওয়ার্ড পায় রোবট ইন মুভি ক্যাটাগরিতে। এরপর থেকে ১৯, ২০, ২১ ও ২২ সালে ইন্টারন্যাশনাল রোবট অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে অর্জন করেছে আরো কয়েকটি স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক। ২০২৩ সালে একটু ভিন্ন স্বাদ নিতে অংশ নেয় রোবটিক্সের সবচেয়ে বড় আসর ওয়ার্ল্ড রোবটিক অলিম্পিয়াডে (WRO)। সেখানে ৭৭টি দেশের ৪৫১টি দলের মধ্যে ফিউচার ইনোভেটার্স ক্যাটাগরিতে ৫ম স্থান অধিকার করে সিলভার পদক পায় তাদের দল। এ দলে তাদের দুজনের সঙ্গে আরো ছিলো রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী ইসরাফিল শাহীন অরণ্য।

ইত্তেফাক প্রজন্মের সঙ্গে আলাপচারিতায় তাফসীর বলে, ‘রোবটিক্স একটি বিস্তৃত বিষয়। এর সঙ্গে প্রোগ্রামিং, মেকানিক্যাল ডিজাইনের মতো মৌলিক ব্যাপারগুলো জড়িত। এজন্য আগ্রহীদের প্রথমত বেসিক ব্যাপারগুলোতে দক্ষতা অর্জন করা জরুরী। আমাদের দেশের তরুণরা এ সেক্টরে দারুণ করছেন। বিশেষত প্রতিবছরই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা গুলোতে তারা সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে’। লাবিব বলে, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে রোবটিক্স, অটোমেশন ও আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সে  গুরুত্ব দিতে হবে। এসব বিষয়ে দক্ষ তরুণদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ালে আমাদের এগিয়ে যাওয়া আরো তরান্বিত হবে’। তাসরীফ ও লাবিবের বেড়ে উঠা ঢাকা শহরে। ভবিষ্যতে রোবটক্স নিয়ে আরো উচ্চতর গবেষণা ও উচ্চ শিক্ষায় বহির্বিশ্বে যাওয়ার ইচ্ছা দুই বন্ধুর।

ইত্তেফাক/এসটিএম