সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন

ভোট গণনার সময় নিয়ে হট্টগোল-মারধর

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৪, ০৩:৫৯

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ঐ মারধরের ঘটনায় এক জন সরকারি আইন কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন। ভোট গণনা রাতে না দিনে করা হবে—এ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী সম্পাদক দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হট্টগোলের এক পর্যায়ে ঐ মারধরের ঘটনা ঘটে।

মারধরের ঘটনায় বহিরাগতরা অংশ নেন বলে অভিযোগ করেছেন আইনজীবীরা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং বহিরাগতদের বের করে দেন সমিতির অডিটোরিয়াম থেকে। এরপর ব্যালট পেপার ভর্তি পাঁচটি ট্রাংক নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।

এদিকে সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদ সুলতানা যুথী ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী মিলনায়তনে উপস্থিত না থাকায় তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে নির্বাচন পরিচালনা সাব-কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের। তিনি বলেন, শুধু সম্পাদক প্রার্থী নাহিদ সুলতানা যুথী উপস্থিত ছিলেন। তাই তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলো। তবে সভাপতি, সহ-সভাপতিসহ অন্য ১৩ পদের কোনোটিরই ফল ঘোষণা করেনি সাব-কমিটি।

উদ্ভূত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন ইত্তেফাককে বলেন, ভোট গণনা করে ফল ঘোষণা করাটাই সঠিক প্রক্রিয়া। বাইরে থেকে এখানে হস্তক্ষেপ হয়েছে। বারের বর্তমান কমিটি রয়েছে এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বসে ভোট গণনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষে রাত সাড়ে ৩টার মধ্যে ব্যালট পেপারগুলো সর্টিংয়ের কাজ সম্পন্ন করে নির্বাচন পরিচালনা সাব কমিটি। এই ব্যালট পেপার সর্টিংয়ের সময় হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। সর্টিংয়ের কাজ সম্পন্নের পরই ভোট গণণার পালা। এই ভোট গণণা শুক্রবার দিনের বেলায় করার দাবি জানান আওয়ামীসমর্থিত সাদা প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক ও তার সমর্থকরা। এতে বাদ সাধেন স্বতন্ত্র সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথী। তাতে সায় দেন বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আইনজীবীরা বলেন, রীতি অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভোট সব সময় রাতের বেলায় গণণা শুরু হয়। রীতি অনুযায়ী রাতেই ভোট গণণা শুরু করতে হবে। আওয়ামী প্যানেলের এবং স্বতন্ত্র সম্পাদক দুই প্রার্থীর এমন পালটাপালটি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হট্টগোলে জড়িয়ে পড়েন তাদের কর্মী-সমর্থকরা। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলা এমন হট্টগোলের মধ্যে রাতেই ভোট গণণার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। তখন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা আবারও হট্টগোল করেন।

এদিকে নির্বাচন পরিচালনা সাব কমিটির সদস্য ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান মনির ইত্তেফাককে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আমরা দ্রুত বৈঠক করব। সেখানেই এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, ভোট গণনা হবে। কাল (শনিবার) এটা হতে পারে।

হামলা ও ভোট গণণা নিয়ে বিএনপিসমর্থিত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আমরা সব পদে বিপুল ভোট পেয়েছি। আওয়ামী প্যানেলের ভরাডুবি হয়েছে। প্রতিটি পদে আমাদের প্রার্থীরা ১০০ ভোটের বেশি ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। এজন্য তারা ভোট গণণাকে ভয় পায়। বিএনপির সম্পাদক প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ভোট গণণার অপেক্ষায় আছি। আমরা নির্বাচন কমিশনকে খুঁজে পাচ্ছি না। আওয়ামী প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, ভোট তো গণনাই হয়নি। সকাল ৮টার পর পুলিশের পাহারায় আমি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ছেড়ে বাসায় চলে এসেছি। আমাদের নেতৃবৃন্দ সার্বিক বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। নাহিদ সুলতানা যুথী সাংবাদিকদের বলেন, বহিরাগতরা, জজ কোর্টের ছেলেরা এখানো জড়ো হয়েছে। কারা জড়ো করেছেন, আমি জানি না।

ইত্তেফাক/এনএন