আকাশে মেঘ ডাকলে আমার খুব ভয় করে। চোখে দেখি না, ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে আমার কী হবে! গত শুক্রবার রাতে যতক্ষণ মেঘ ডেকেছে, আমি বসে বসে কেঁদেছি। বিশেষ করে রাতে যখন কেউ আশেপাশে থাকে না। আমাকে একটু মাথা গোঁজার জায়গা দিন। যতদিন বাঁচব, নামাজে বসে দোয়া করব আপনাদের জন্য।
রোববার (১৭ এপ্রিল) ইফতারের কিছু সময় আগে কেঁদে-কেঁদে এসব কথা বলছিলেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মনোয়ারা বেগম (৫১)। স্বামী মারা যাওয়ার পর অসহায় এই নারীর আপন বলতে কেউ নেই।
মনোয়ারা খাতুন বলেন, ১৩ বছর বয়সে আমার প্রতিবন্ধিতা দেখা দেয়। বাবার মৃত্যুর পর মায়ের সঙ্গে তাড়াশ শহরে এসে ও ভিক্ষা করা শুরু করি। এর মধ্যে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর মা মারা গেলে স্বামীর সঙ্গে গুচ্ছগ্রামে থেকেছি কয়েক বছর। স্বামী মারা গেলে পাশের সলঙ্গা থানার আমশরা গ্রামের মামাতো ভাই দুলাল মিস্ত্রীর বাড়িতে আশ্রয় নিই। কিন্তু সেখানে বেশী দিন রাখেনাই আমাকে। এখন বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি বন্ধ দোকানের বারান্দায় থাকছি। আমাকে একটি থাকার জায়গা করে দেন।
বাসস্ট্যান্ড এলাকার দোকানদার মজনু পারভেজ বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মনোয়ারা খাতুন ১০ দিন যাবৎ আমার পাশের বন্ধ দোকানের বারান্দায় থাকছেন। আমরা সবাই মিলে তাকে মশারি, তোষক ও লেপ কিনে দিয়েছি। এখানকার ‘মা হোটেল’ থেকে তাকে খাবার দেওয়া হচ্ছে। প্রস্রাব-পায়খানার জন্য উপজেলা মসজিদের টয়লেটে নিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু রাতে তো কেউ থাকি না। তখন তার খুব কষ্ট হয়। দোকানটি বন্ধ আছে বিধায় এখন বারান্দায় থাকতে পারছে। কিন্তু দোকান খুললে তখন উনি কোথায় যাবে? দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার একটি থাকার জায়গা করে দেওয়া প্রয়োজন।
তাড়াশ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা একেএম মনিরুজ্জামান দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ইউএনও ও এসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মনোয়ারা বেগমের জন্য কিছু করার চেষ্টা করা হবে।
