রাস্তা না খুঁড়ে ভেতরে ঢুকে সমস্যার সমাধান করবে এই প্রযুক্তি

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৪, ২২:৫৬

বাংলাদেশের রাস্তাগুলোতে যেকোনো অভ্যন্তরীণ সমস্যা দেখা দিলে একেবারে ওপরের স্তর থেকে রাস্তা খুঁড়ে, তারপর ভেতরের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়। এতে প্রচুর যানজট ও ভোগান্তি পোহাতে হয়। ‘বোরড্ টানেলার্স’ এর মতো এমন ছোট ব্যাসার্ধের খননযন্ত্র বানানো গেলে রাস্তার ওপরের স্তর নষ্ট না করেই অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান করা যাবে।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের ও প্রভাবশালী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক এর ‘দ্য বোরিং’ কোম্পানি কর্তৃক আয়োজিত ‘নট অ্যা বোরিং কম্পিটিশন’-এর চূড়ান্ত পর্বে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ‘বোরড্ টানেলার্স’।

‘দ্য বোরিং’ কোম্পানি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাটি খনন করে সুড়ঙ্গ তৈরি করার কাজ করে থাকে। প্রচণ্ড দূরদর্শী ও ভবিষ্যৎবাদী ইলন মাস্ক বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যতে পৃথিবীর যাতায়াত ব্যবস্থা আমূল বদলে যাবে। তখন রাজত্ব করবে ত্রিমাত্রিক সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক। তাই তো হাইপারলুপের মতো প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে মাস্কের প্রতিষ্ঠান। মূলত এরই পরিপ্রেক্ষিতে, ‘দ্য বোরিং’ কোম্পানি ২০২১ সাল থেকে আয়োজন করে আসছে ‘নট অ্যা বোরিং কম্পিটিশন’টি।

প্রতিযোগীদের ৩০ মিটার লম্বা ও ৫০ সেন্টিমিটার চওড়া একটি সুড়ঙ্গ খনন করতে হয়। এত ক্ষুদ্র ব্যাসার্ধের সুড়ঙ্গ খননকারী যন্ত্র বানানোই যেখানে চ্যালেঞ্জিং বিষয়, সেখানে, সবথেকে কম সময়ে, সবচেয়ে কার্যকরী উপায়ে ও সুনিপুণ দক্ষতার সাথে সুড়ঙ্গ খনন করার উপযোগী যন্ত্র বানানো প্রতিযোগিতাকে আরও দুরূহ করে তুলেছে। ঘণ্টায় ৩ মিটার গতিতে চলা একটি শামুকের গতিকেও পরাস্ত করতে সক্ষম হতে হবে এই খননকারী যন্ত্রকে, যা বাজারের বিদ্যমান খনন উপযোগী যন্ত্রগুলোর চেয়েও ১০ গুণেরও বেশি দ্রুততম হবে। 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামকরা সব প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন করা শত-শত দল থেকে বাছাই করে মাত্র ১০ টি দলকে চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়। প্রতিযোগিতার তৃতীয় আসরের চূড়ান্ত পর্বে টিকে যায় বাংলাদেশি দল ‘বোরড্ টানেলার্স’।

‘বোরড্ টানেলার্স’-এর এই স্বপ্নযাত্রায় শুরু থেকে ছিলেন নটরডেম কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী তালহা জুবায়ের। তিনি এই প্রতিযোগিতার ব্যাপারে জানতে পারেন। পরে এই দলে যুক্ত হন শিথিল, মাহিম, ইমরান, এনাম ও নোমান। দলের সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলেও একমাত্র তালহা’ই ছিলেন কলেজ পড়ুয়া। তবে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া যারা ছিলেন, তারা পরবর্তী ধাপে দলে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

প্রতি আসরে কমবেশি ৪০০ আবেদন পড়ে এই প্রতিযোগিতায়। ম্যাসাচুসেটস্, ভার্জিনিয়া টেকের মতো বিশ্বজোড়া প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের টপকে সেরা দশে জায়গা করে নেওয়া নিঃসন্দেহে কঠিন ছিলো। তারপরও চূড়ান্ত পর্বে টিকে যাওয়া অবশ্যই কৃতিত্বের দাবিদার। এ নিয়ে দলটির সদস্যরা বলেন, “বাংলাদেশের রাস্তাগুলোতে যেকোনো অভ্যন্তরীণ সমস্যা দেখা দিলে একেবারে ওপরের স্তর থেকে রাস্তা খুঁড়ে, তারপর ভেতরের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়। এতে প্রচুর যানজট ও ভোগান্তি পোহাতে হয়। ‘বোরড্ টানেলার্স’ এর মতো এমন ছোট ব্যাসার্ধের খননযন্ত্র বানানো গেলে রাস্তার ওপরের স্তর নষ্ট না করেই অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান করা যাবে।”

ইত্তেফাক/এসটিএম