মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ভিভিআইপি রেস্টহাউজটি ব্যবস্থাপকের দখলে!

গড়ে তোলা হয়েছে রাজহাঁস ও কবুতরের খামার

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৪, ০৮:২০

দেশ ও বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের রাত্রিযাপনের জন্য সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ সৈয়দপুর বিমানবন্দর চত্বরে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি দ্বিতল ভিভিআইপি রেস্টহাউজ নির্মাণ করে। থ্রিস্টার হোটেলের আদলেই গড়া হয় এই ভিভিআইপি রেস্টহাউজটি। প্রতিটি রুম সজ্জিত করা আছে অত্যাধুনিক মানে। ডাবল বেডের চারটি রুম রয়েছে এ রেস্টহাউজে। খাবারের জন্য বিশাল ডাইনিং স্পেস। রেস্টহাউজে অবস্থানরত ব্যক্তিদের অতিথি রুম রয়েছে (ড্রয়িং রুম)। প্রতিটি শয়নকক্ষে আছে একটি করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি),  ড্রয়িং রুম ও ডাইনিং রুম মিলে আরো আছে তিনটি এসি। সব মিলে সাতটি এসি চলে সার্বক্ষণিক ঐ রেস্টহাউজে। খাবার দাবার, রান্নার জন্য ইলেকট্রিক চুলা ও হিটারের ব্যবস্থা আছে। রেস্ট হাউজটি থেকে সারা বছর মিলে এক কানাকড়ি আয় হয় না সরকারের।

দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে রেস্টহাউজটি পুরোপুরি নিজ দখলে রেখে পারিবারিকভাবে ব্যবহার করে আসছেন সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক। অভিযোগ রয়েছে, কেউ রেস্ট হাউসের রুম ভাড়া চাইলেই বলা হয় বুকিং আছে। ফলে দেশি ও বিদেশি ব্যক্তিরা কোনো সময়েই রেস্টহাউজে অবস্থান করার সুযোগ পান না। এমনকি রেস্টহাউজ চত্বরে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক রাজহাঁস ও কবুতরের খামার গড়ে তুলেছেন। আর এসব পশুপাখিকে দেখভাল করার জন্য বিমানবন্দরে কর্মরত তিন জন সরকারি কর্মচারীকে নিযুক্ত করেছেন। আর রেস্টহাউজ পাহারা দেওয়ার নামে তিন জন আনসার সদস্য পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন।

এসব কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা হয় সরকারি কোষাগার থেকে। এসি ও ইলেকট্রিক চুলা বাবদ বছরে গুণতে হচ্ছে ১ লাখ টাকারও বেশি বিদ্যুত্ বিল। এছাড়াও রেস্টহাউজ মেইনটেনেন্স বাবদ প্রতি বছর ব্যয় দেখানো হয় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মতো। রেস্টহাউজ থেকে এক টাকা আয় না হলেও ব্যয় হচ্ছে সব মিলে কর্মচারীদের বেতনসহ বছরে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকার মতো। গত চার বছরে সাকুল্যে সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৮০ লাখ টাকা।

এছাড়াও প্রত্যক্ষ ক্ষতির তালিকায় রয়েছে আরো কয়েক লাখ টাকা। আর তাহলো বিমানবন্দর ব্যবস্থাপকের বাসযোগ্য যে বাসাটি আছে সেটিতে তিনি বসবাস না করে ১১ ও ১৪ গ্রেডের কর্মচারীদের নামে বরাদ্দ দিয়েছে। এমন বাসা বরাদ্দ পায় কমপক্ষে নবম গ্রেডে কর্মরত সরকারি কর্তাব্যক্তিরা। নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা ঐ বাসাটি বরাদ্দ নিয়ে বসবাস করায় সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ, যথার্থ বাসাভাড়া পাচ্ছে না। এমনকি তার (ব্যবস্থাপক) নামে বরাদ্দকৃত জিপটি যানবাহন শাখায় না রেখে রেস্টহাউজ চত্বরে রাখে। এর ফলে সরকারি অর্থে ক্রয় করা জ্বালানি ব্যবহার করে তিনি ব্যক্তিগত কাজে গাড়ি নিয়ে দিনে ও রাতে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করে বলে অভিযোগ আছে। এতেও সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

বিমানবন্দর ব্যবস্থাপকের এমন ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেকে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মেলেনি। বরঞ্চ হেনস্থার শিকার হয়েছেন অভিযোগকারীরা। বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সুপ্লব কুমার ঘোষ নিম্ন কর্মচারীদের কাছে বর্তমানে মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছেন বলে একাধিক কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। কোনো কর্মচারী বিমানবন্দর ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটি করার সাহস পান না। পান থেকে চুন খসলেই কর্মচারীদের করা হয় বদলি। কর্মচারীদের মতে কোনো এক অদৃশ্য শক্তির বলে বলীয়ান হয়ে অব্যাহতভাবে অনিয়ম করছে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক।

রেস্টহাউজ দীর্ঘ চার বছর ধরে নিজ দখলে রাখার অভিযোগ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে কথা হয় সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সুপ্লব কুমার ঘোষের সঙ্গে। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ সঠিক নয়। এগুলো তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে জানান।  তবে রেস্ট হাউজে হাঁস ও কবুতরের খামার করেছেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি সংযোগ কেটে দেন।

ইত্তেফাক/এসটিএম