শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

মনপুরায় সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের 

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৪, ১৩:৩৮

মনপুরা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রণোদনা ও প্রদর্শনী কর্মসূচির আওতায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন কৃষকেরা। মাটি ও আবহাওয়া চাষের অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। স্বল্প খরচে ফুল চাষে সফলতার আশা তাদের। উপজেলার প্রায় ১০০ জন কৃষক ১৫টি ব্লকে প্রাথমিকভাবে ৬ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদ শুরু করেন। 

সরজমিনে হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন ব্লকে গিয়ে দেখা যায়, কৃষি জমিতে সূর্যের হাসি ছড়াচ্ছে সূর্যমুখী ফুল। ফুলের সৌন্দর্য দেখতে দর্শনার্থীরা গাছের পাশে ভিড় জমাচ্ছেন। ফুলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন অনেকে।    

ছবি: ইত্তেফাক

কৃষক মো. রিয়াজ জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনা ও প্রদর্শনী কর্মসূচির আওতায় ২ কেজি সূর্যমুখী ফুলের বীজ নিয়ে বাড়ির পাশে ৫০ শতাংশ জমিতে বপন করি। ৫০ শতাংশ জমিতে চাষ করতে আমার উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। আল্লাহর রহমতে যে ফলন হয়েছে তাতে ৪৫০ থেকে ৫০০ কেজি বীজ পাওয়া যাবে। প্রতি মণ কেজি ৪ হাজার টাকা করে বিক্রয় করলে ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারব। খরচ বাদে আমার লাভ হবে ৩৫ হাজার টাকা। 

ঈশ্বরগঞ্জ ব্লকের কৃষক পলাশ জানান, আগে জমিতে বিভিন্ন সবজি চাষ করতাম। এ বছর কৃষি অফিসের সহায়তায় আমি সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছি। বর্তমানে আমার খেতে প্রতিটি গাছে ফুল ধরেছে। আগামীতে আরও বেশি সূর্যমুখীর চাষ করব।  

ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা সবসময় কৃষকদের নতুন নতুন ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত করি। এ বছর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ১৫টি ব্লকে ১০০ জন কৃষক সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। আমরা সবসময় তাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। 

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান তাওহীদ বলেন, রবি মৌসুম প্রণোদনা ও প্রদর্শনী প্রকল্পের আওতায় প্রণোদনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সূর্যমুখী ফুলের বীজ দেওয়া হয়েছে। এই বীজের তেল ভালো আর দামও বেশি। সূর্যমুখী চাষে এ বছর কৃষকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ বেড়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে সবসময় বিভিন্ন রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

ইত্তেফাক/এসএআর/পিও