বাঘায় একটি স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৮

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৯, ১৭:৪৬

সঠিক সময়ে স্কুলে আসেন না প্রধান শিক্ষক। তিন ক্লাস মিলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ জন। এর মধ্যে নিয়মিত উপস্থিত ১২-১৫ জন। অথচ ওই স্কুলে শিক্ষক কর্মচারী রয়েছেন ৮ জন। এ প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের মাসিক খরচ প্রায় এক লাখ টাকা। খোদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্কুল পরিদর্শন করে এ তথ্য জানান। তার পরেও চলছে স্কুল!

সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে বাঘা উপজেলার আমোদপুর গ্রামে ৬ জন শিক্ষক, ১ জন পিয়ন ও ১ জন নৈশ্য প্রহরী নিয়ে চালু করা হয় “আমোদপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়”।  সে সময় ওই বিদ্যালয়ে তিন ক্লাস মিলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪০ জন। যা বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। এর মধ্যে নিয়মিত উপস্থিত ১২ থেকে ১৫ জন। অথচ ওই স্কুলের জন্য সরকারের মাসিক খরচ লক্ষাধিক টাকা।

ওই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি ৯৫ সালে ওই স্কুলটি স্থাপন করার পর শিক্ষার্থী ভালোই ছিল। পরবর্তী সময়ে পাশের গ্রাম তেপুখুরিয়া স্কুল চালু হওয়ায় আমি আমার পদ থেকে সরে দাঁড়াই। তারপর থেকে এই স্কুলের শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্বে শিক্ষার্থী ধরে রাখতে পারেনি।

তার মতে, প্রধানশিক্ষকসহ অন্যান্যরা সঠিক সময় মেনে স্কুলে আসেন না। এ কারণে স্কুলটির লেখা-পড়া বর্তমানে মুখ থুবড়ে পড়েছে। একই কথা বলেন শিক্ষার্থী অভিভাবকরা।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা জানান, তিনি গত চার মাসে ওই স্কুলটি দুইবার পরিদর্শন করেন। সেখানে তিন ক্লাস মিলে শিক্ষার্থী পেয়েছেন মাত্র ১৪ জন। এর মধ্যে শেষবার গত মাসে ওই স্কুলে গিয়ে দু’জন শিক্ষক অনুপস্থিত পান। ফলে ওই স্কুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরিফুল ইসলাম জানান, ওই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক চিত্র তিনি উপর মহলকে জানিয়েছেন। সেখান থেকে অদ্যাবধি কোন নির্দেশনা আসেনি। এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এর আগে তিনি ওই স্কুলের পড়া-লেখা এবং কম সংখ্যাক শিক্ষার্থীর বিষয়ে স্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতিকে অবগত করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। তবে প্রধানশিক্ষক শহিদুল ইসলাম শিক্ষার্থী কম থাকার সত্যতা স্বীকার করলেও দেরিতে স্কুলে আসার বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেন।

ইত্তেফাক/আরকেজি