বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ফ্রাংকেনস্টাইন তৈরির পরিণাম শুভ হয় না

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৪, ০৭:৩০

আজি হইতে ২০০ বত্সর পূর্বে ঔপন্যাসিক মেরি শেলি অল্প বয়সে লিখেন ‘ফ্রাংকেনস্টাইন : অর দ্য মডার্ন প্রমিথিউস’ নামে একটি ভৌতিক উপন্যাস ও কল্পকাহিনি। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র একজন সুইডিশ উন্মাদ বিজ্ঞানী। তাহার নাম ড. ভিক্টর ফ্রাংকেনস্টাইন। যিনি একটি শবদেহ হইতে সৃষ্টি করেন একটি মনস্টার বা দানব। শেষ পর্যন্ত এই দানবের হস্তে তাহার স্রষ্টার নির্মম মৃত্যু হয়। মেরি শেলির এই উপন্যাসের ‘ফ্রাংকেনস্টাইন’ কথাটি এতটাই শক্তিশালী যে, তাহা আজ একটি জীবন্ত চরিত্র। এত বত্সর পরও তাহার এই চরিত্রটি প্রাসঙ্গিক। বিশেষত উন্নয়নশীল বিশ্বের রাজনীতিতে একের পর এক ফ্রাংকেনস্টাইনের সদম্ভ পদচারণা লক্ষ করা যাইতেছে। যাহারা তাহাদের স্রষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক, শেষ পর্যন্ত এই দানবদের হস্তে তাহাদেরই পতন ত্বরান্বিত হইতে দেখা যায়।

উন্নয়নশীল বিশ্বের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি করা হয় ফ্রাংকেনস্টাইন। এই সকল দেশে যাহারা ক্ষমতাসীন থাকেন, তাহারা এই সকল দানব তৈরি করিয়া ভাবেন তাহারাও বুঝি তাহাদের লোক! ফ্রাংকেনস্টাইনরূপীদের তোষামোদিতে বিভোর থাকেন ক্ষমতাসীনরা। ইহার ফলে সেই দানবরা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করিয়া দেশকে ফোকলা করিয়া ফেলে। তাহাদের অন্যায়, অনিয়ম ও অত্যাচার-নির্যাতনে দেশবাসী হইয়া উঠে অতিষ্ঠ। তাহার পরও ক্ষমতাসীনরা ভাবিতে থাকেন, তাহারা তো তাহাদের পক্ষেই কাজ করিতেছেন। এই জন্য ক্ষমতাসীনরা মনে করেন, দানবরা যাহাই করুক না কেন, তাহাদের সমর্থন দেওয়া উচিত; কিন্তু এই দানবরাই এক দিন তাহাদের করুণ পরিণতি ডাকিয়া আনে। তখন দেখা যায়, তাহারা আসলে তাহাদের লোক ছিল না, তাহাদের ভূমিকা ছিল দেশেরই বিরুদ্ধে।

দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে আল্লাহ তায়ালা কাউকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেন; কিন্তু ক্ষমতাসীনরা অনেক সময় ভাবিয়া দেখেন না, তাহারা আসলে কী করিতেছেন? দেশটাকে তাহারা কোথায় লইয়া যাইতেছেন? আর ইহার পরিণতিই-বা কী হইতে পারে, এই সম্পর্কেও তাহারা পূর্বাপর সকল কিছু ভাবেন বলিয়া মনে হয় না। এই সকল দেশে যেই সকল নির্বাচন হয়, তাহা লইয়া বহু ক্ষেত্রেই বিচার-বিশ্লেষণ করা হয় না। যেইখানে নির্বাচনের বহু পূর্ব হইতেই সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ও তাহার নেতাকর্মীদের ঘায়েল করিতে উঠিয়া পড়িয়া লাগিবার দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। ইহার পর কতভাবে কারচুপির আশ্রয় লওয়া হয়, তাহার ইয়ত্তা নাই; কিন্তু নানা বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে ইহা করিয়াও তাহারা শেষ অবধি টিকিয়া যান। দেখা যায়, যাহারা স্বাধীনতাবিরোধী, একসময় যৌবনকালে দেশের বিরুদ্ধে গিয়া অবস্থান গ্রহণ করিয়াছে, স্বাধীনতাকামীদের খুন করিয়াছে, তাহারাও সরকারি দল ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়া যায় ও ঘাপটি মারিয়া থাকে। এই জন্য তাহারা তৈলমর্দন হইতে শুরু করিয়া সকল কিছু করিতে রাজি থাকে। তাহার পর যখন প্রয়োজন হয় ও সময়-সুযোগ আসে, তখন তাহারা ফ্রাংকেনস্টাইনের মতো দৈত্য-দানবের রূপ ধারণ করে। তাহারা সরকারি দলের নাম ভাঙাইয়া হেন অপরাধ ও অপকর্ম নাই যাহা করে না।

তাহাদের কারণে অনেক দেশ অনেক কিছু হারায়। তাহার পরও কি উন্নয়নশীল দেশগুলির শিক্ষা হয়? তাহাদের ব্যাপারে কি আইনের শাসন কাজ করে? দল ও সংগঠন হইতে কি কার্যকর পদক্ষেপ লওয়া হয়? এই সকল প্রশ্ন আজ স্বাভাবিক কারণেই করা যাইতে পারে।

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন