মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে আবার গোলাগুলি

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৪, ০২:৪৩

মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিম রাখাইনে  সরকার বাহিনী ও বিদ্রোহী আরকান আর্মির মধ্যকার সংঘর্ষ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। সীমান্তের এ পয়েন্টে দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলে আসা সংঘর্ষে সরকার বাহিনী হারিয়েছে অন্তত ৬০টির অধিক ছোট-বড় ঘাঁটি। এদিকে সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল তুমব্রু বাজার ও তুমব্রুগ্রামসহ আশপাশের পাঁচ গ্রাম। বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। 

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ৪৫ পিলারের পাশে বিদ্রোহী আরকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকা ছালিদং  ক্যাম্পে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছে জামছড়ি সীমান্ত পয়েন্ট থেকে। এটি জান্তা বাহিনী থেকে কেড়ে নিয়েছিল তারা। এ ক্যাম্পে কে বা কারা আগুন দিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সকালে  একটি জান্তা বাহিনীর ঘাঁটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিদ্রোহী আর্মি।

ঘাঁটিটির নাম ফকিরা বাজারের কমনচিক ক্যাম্প; যেটিতে শতাধিক জান্তাসমর্থিত  বাহিনী অবস্থান করছে। বুধবার রাত ৯টার পর এ ক্যাম্পটি ঘিরে ফেলে বিদ্রোহী আরকান আর্মি। এরপর শুরু করে গোলাগুলি, যা এখনো চলমান।

দুপুর সোয়া ১২টা নাগাদ প্রচণ্ড গোলাগুলি চলছিল এ ঘাঁটিটির পতন ঘটাতে। যে ঘাঁটিটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৪৬, ৪৭   ও ৪৮ নম্বর পিলারের ছয় থেকে সাত কিলোমিটার ভেতরে। এ গোলাগুলি চলাকালে সদরের বাংলাদেশ সীমান্তে বসবাসকারী জামছড়ি, ফুলতলী, চেরারমাঠ, আশারতলী জারুলিয়াছড়ি এবং  ঘুমধুমের তুমব্রু বাজার, তুমব্রু পশ্চিমকূল, বাইশফাঁড়ি ও কোনারপাড়াসহ বেশ কিছু গ্রামের মানুষ গোলাগুলির প্রকট আওয়াজ শুনতে পান তারা । 

জামছড়ির বাসিন্দারা বলেন, দুই পক্ষের সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনায় গোলাগুলির প্রকট  শব্দ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ সংবাদ লেখাকাল অবধি বিকালে পর্যন্ত চলছিল।

যাদের মধ্যে সীমান্তের অধিবাসী নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার সাবের আহমদ, তুমব্রুর আবদুল জাব্বার, বাইশফাঁড়ির ছৈয়দ হোসেন ও চেরারমাঠের ছৈয়দ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তারা বলেন, বুধবার দুপুরের পর  বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে   বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে এ সংবাদ লেখাকাল অবধি গোলাগুলি  চলছে।  তাদের ধারণা, রাখাইন রাজ্যের মন্ডু জেলার বলিবাজারের একটি বড় সেনা ক্যাম্প দখলে ব্যাপক গোলাগুলি চলছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি