সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

রংপুর মেডিকেলে ছারপোকা-তেলাপোকায় অতিষ্ঠ রোগীরা

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৪, ১৪:১৮

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি (হৃদরোগ) বিভাগের ওয়ার্ডসহ সিসিইউসহ পুরো মেডিকেলের বিছানায় ছারপোকা ও তেলাপোকার অভয়ারণ্যতে পরিণত হয়েছে। পোকার আক্রমণে দিশেহারা চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ওস্বজনরা।

সেই সঙ্গে বাথরুমের অবস্থা করুণ। নিয়মিত পরিস্কার না করায় মানুষের ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। হাসপাতাল কতৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে সবসময় দুই শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ভর্তি থাকা হৃদরোগীদের সার্বক্ষণিক ছারপোকার কামড় আর তেলাপোকার অত্যাচার সহ্য করে চিকিৎসা সেবা নিতে হয়। রোগীর স্বজন ও রোগীদের অভিযোগ, পুরো ওয়ার্ড জুড়ে তেলাপোকা ছাড়া পোকার বাসা। অগোনিত ছাড়পোকা ও তেলাপোকা বাসা বেঁধেছে। রোগীদের শরীরের ওপর দিয়ে চলাচল করে পোকাগুলো, খাওয়ার থালায়, পানির গ্লাসে, বোতলে সর্বত্র এদের অবাধ বিচরণ। ছাড়পোকার কামড় সহ্য করে থাকাই মুশকিল বলে অভিযোগ করেন রোগীরা।

হৃদরোগ বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা কুড়িগ্রামের রোগী সালাম মিয়ার ছেলে বাবু ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, বাবার অবস্থা খুবই সংকটনাপন্ন। দুদিন ধরে তার জ্ঞান নেই। এমন অবস্থায় তার শরীরে মুখের ওপর দিয়ে তেলাপোকা আর ছারপোকা ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাসপাতাল কতৃপক্ষকে খোদ কার্ডিওলজি বিভাগ থেকে বার বার জানানোর পরেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। মশার উৎপাত মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে। বাথরুম নিয়ম অনুযায়ী পরিস্কার না করায় ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।


 
রংপুরের রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোরশেদ বলেন, আমার বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে গত সাত দিন আগে কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। এখানে ছাড়পোকা ও তেলাপোকার আক্রমণে আমরা অতিষ্ঠ। খাবার প্লেটে বাবার শরীরের পোকা পায়চারি করছে। রাতে বাবা ঘুমাতে পারেন না ছাড়পোকার কামড় ও মশার উৎপাতে। ওয়ার্ডের বাথরুমগুলো সময় মতো পরিষ্কার না করায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধে ধারে কাছে যাওয়া যায় না। এমন অবস্থা গোটা মেডিকেলের ওয়ার্ডগুলোর।

রংপুর নগরীর মমতাজ বেগম বলেন, ছারপোকার কামড়, তেলচাটার ও মশার উৎপাতে রাতে ঘুমাতে পারি না। দেয়ালে ওয়ার্ডের বেডের পাশসহ বিভিন্ন স্থানে তেলাপোকা আর ছাড়পোকার বাসা বেঁধেছে।  

নীলফামারীর জলঢাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মোনাব্বর মিয়া (৭৫) বলেন, গত ১৪ দিন ধরে হৃদরোগ কার্ডিওলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন আছি। রাতে ছাড়পোকা ও তেলাপোকার অত্যাচারে ঘুম হয় না। এ ওয়ার্ডে বাথরুমের বেহাল দশার কারণে নাক-মুখ কাপড়ে পেচিয়ে যাচ্ছি। হাসপাতাল কতৃপক্ষ আমাদের মানুষ মনে করে না।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. হরিপদ সরকার যোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান কার্ডিওলজি বিভাগ (হৃদরোগ) বলেন, মেডিকেলের হৃদরোগ বিভাগ (কার্ডিওলজি) তেলাপোকা ও ছাড়পোকার অভয় আশ্রয় স্থলে পরিণত হয়েছে। বাথরুমের সমস্যা মশার উপদ্রবের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালককে জানানো হয়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে সব সময় দুই শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইউনুছ আলী বলেছেন, মেডিকেলে ছারপোকা বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীরা তাদের ব্যবহৃত কাপড়ে বহন করে আনছে। আমরা নিয়মিত স্প্রে করে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। নিয়মিতই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হয়। তবে রোগী বেশি ভর্তি হবার কারণে কিছুটা বিলম্বের ঘটনা ঘটে।    

ইত্তেফাক/পিও