শফিকুর রহমান রয়েল
সবকা সাথ, সবকা বিকাশ— চারটি শব্দযুক্ত এই হিন্দি স্লোগানটির ভাবানুবাদ হচ্ছে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন। আর এ স্লোগানকে সামনে রেখেই ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো (বিজেপি নয়) ক্ষমতায় এসেছিলো নরেন্দ্র মোদি সরকার। এবার আর চা-ওয়ালা নয়, জাতির সামনে নিজেকে চৌকিদার, অর্থাত্ পাহারাদার বা সেবক হিসেবে উপস্থাপন করেন। তাতেও বাজিমাত; উপরন্তু নিরঙ্কুশ বিজয়। অবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে, অর্থনৈতিক ইস্যুগুলোকে সামনে এনে এ বছরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। অথচ ভারতীয় অর্থনীতির দুর্বলাবস্থার কথা সকলেরই জানা এবং অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরামর্শেও কোনো ঘাটতি নেই। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এখন পর্যন্ত তড়িঘড়ি কোনো অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজন পড়েনি। এর প্রধান কারণ হয়তো এটিই যে, সরকার হবে স্থিতিশীল।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা যে গুরুত্বপূর্ণ সাধনী, সে কথা নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। কারণ এটি নীতির ধারাবাহিকতার বিষয়ে দেয় সবুজ সংকেত। ঠিক একই হেতুতেই মোদি সরকারের বিজয়ের পর স্টক মার্কেটের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখতে পেয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহত্ রাষ্ট্রটি। অর্থনীতির মতোই বিশেষত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে যদি স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, তবেতো সোনায় সোহাগা। এটি সরকারকে একান্ত জরুরি বিষয়ে দৃঢ় নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সমর্থ করে তোলে। মোদি সরকার গত পাঁচ বছরজুড়েই গরীবদের ভাগ্যোন্নয়নে অসংখ্য কাজ করেছিল। ফলশ্রুতিতে মন জয় করে নিয়েছিল জনগণের, বিশেষত সারা দেশের নিম্ন আয়ের মানুষদের।
নির্বাচনের আগেই শোনা গেছে, নির্বাচিত হলে এবার সরকারের নীতি নির্ধারকদের কাছে প্রাধান্য পাবে নারীদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি। যথাসাধ্য চেষ্টা করবে শ্রমশক্তিতে ভারসাম্যহীনতা কমানোর। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে। বর্তমান সরকার মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে বাসস্থানের বিষয়ে একটু বেশিই নজর দেবে। সাশ্রয়ী মূল্যের গ্রামীণ ও শহুরে গৃহায়ণের জন্য যে বর্ধিত সরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন, তা মাথায় রেখেই এগোবে ভারত। তবে এরটাও সত্য যে বৃহত্ পরিসরের নির্মাণ কাজ হাতে নিলে গ্রামীণ ও নগর অঞ্চলে কাজের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে অনেক।
প্রথম মোদি সরকারের আমলে শতভাগ গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল। তবে অনেক খানা নিয়মিত বিদ্যুত্ সরবরাহের বাইরে। ভারতে লাখ লাখ গ্রামের প্রত্যেকটি খানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ নিশ্চিত করাটা এখনো চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে। সে কাজ সমাপ্ত করতে নিশ্চিতভাবেই প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দেবে বর্তমান মোদি সরকার। নিয়মিত বিদ্যুত্ সরবরাহ কারুশিল্প, বয়ন কর্মকাণ্ড ও কর্ম সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। ভারতের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প আজ যন্ত্রনির্মিত ও চীনা পণ্যের দাপটে মরতে বসেছে। প্রতিযোগিতার মুখে কিছুতেই টিকতে পারছে না। অবস্থার পরিবর্তন ঘটলে কারুশিল্প থেকে নারীদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে, এ কথা নির্দ্বিধায় বলে দেওয়া যায়। -নিউ ইয়র্ক টাইমস অনুসরণে
