বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ঈদ যাত্রা হউক স্বস্তিদায়ক

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:০৫

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এই বত্সর মাহে রমজান ৩০ দিনের হওয়ার সম্ভাবনাই অধিক। কেননা রমজান মাসের পূর্বের দুইটি হিজরি মাস ছিল ২৯ দিনের। যেহেতু হিজরি মাস পরপর ২৯ দিনের হয় না, সেইহেতু আগামী ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হইবার কথা। সেই অনুযায়ী গত সপ্তাহব্যাপী অনলাইন-যুদ্ধে যাহারা জয়ী হইয়া ট্রেনের টিকিট কাটিতে পারিয়াছে, তাহারা আজ ঈদ যাত্রা শুরু করিতেছে। আর আগামীকাল হইতে শুরু হইবে নৌপথে ঈদ যাত্রা। আজ হইতে রেলের ফিরতি অগ্রিম টিকিট বিক্রয়ও শুরু হইয়াছে। তাই ঈদ যাত্রা ও কর্মস্থলে ফিরা যাহাতে নির্বিঘ্ন, স্বস্তিদায়ক ও আনন্দময় হয়, সেইদিকে এখন সজাগ দৃষ্টি দিতে হইবে।

নগর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমানে ঢাকার জনসংখ্যা ২ কোটির অধিক। সেইখানে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলিতেছে, এই বত্সর ঢাকা এবং ঢাকার আশপাশের এলাকা হইতে ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ ঢাকার বাহির যাইবে। ঢাকা হইতে আনুমানিক সাড়ে ২২ লক্ষ মানুষ ঈদ উপলক্ষ্যে বাড়ি যাইবে নৌপথে। এই বত্সর লম্বা ছুটি এবং ইহার সহিত বাংলা নববর্ষ থাকায় মুসলমান ছাড়াও অন্য ধর্মের মানুষও ঢাকার বাহিরে যাইবে। রাজধানী ঢাকার ৮০ শতাংশেরও অধিক লোকের এই শহরে কোনো নিজস্ব বাড়িঘর নাই। তাই তাহারা প্রাণের টানে, নাড়ির টানে বড় ছুটি পাইলেই গ্রামে চলিয়া যায়। সেইখানে তাহারা আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের সহিত মিলিত হয়। ঈদ বা বড় উত্সবের সময় ভ্রমণকালে এই সকল মানুষের দুর্ভোগ কোনো নূতন বিষয় নহে। সড়কপথে যানজট, দুর্ঘটনা প্রভৃতি কারণে তাহারা বিড়ম্বনার শিকার হয়। অনেক সময় তাহারা নির্ধারিত সময়ে বাড়ি ফিরিতে না পারিয়া রাস্তায় আদায় করে ঈদের নামাজ। তবে আশার কথা, ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখিতে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হইয়াছে। বিভিন্ন মহাসড়কে লাগানো হইয়াছে সিসি ক্যামেরা। এমনকি এই বত্সর বিভিন্ন মহাসড়কে টকিং ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি মহাসড়ক নিয়ন্ত্রণে থাকিতেছে বডি লাইভ ক্যামেরা। হাইওয়ে প্যাট্রল পুলিশ সমগ্র দেশে ১২২টি ঝুঁকিপূর্ণ স্পট চিহ্নিত করিয়াছে। যদিও যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতে, এই বত্সরের ঈদে দেশে ৭১৪টি স্থানে যানজট হইতে পারে এবং ১০টি জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের ২১৮টি স্থান অতি দুর্ঘটনাপ্রবণ।

এই বত্সর কাঁচপুর, মেঘনা, গোমতী, কোনাবাড়ীসহ কয়েকটি উড়ালসড়ক খুলিয়া দেওয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হইয়াছে। যদিও ঢাকা হইতে বাহির হইতেই মানুষের অনেক সময় লাগিয়া যায়। তবে বাস মালিক ও গাড়িচালকরা যদি আন্তরিকভাবে সড়কে নিয়মশৃঙ্খলা মানিয়া চলেন, তাহা হইলে পরিস্থিতি ততটা নাজুক হইবে না বলিয়া আমাদের বিশ্বাস। ঈদ আসিলেই সড়কে লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা গাড়ি নামানো হয়। কর্তৃপক্ষকে এই অপতত্পরতাও রোধ করিতে হইবে। সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিজে আশঙ্কা প্রকাশ করিয়াছেন যে, আসন্ন ঈদে উত্তরাঞ্চল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের পথে সড়ক সমস্যার কারণে যাত্রী ভোগান্তি হইতে পারে। এই দুই রুট ছাড়া দেশের বাকি অঞ্চলে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হইবে। আমরা আশা করি, বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ায় এই বত্সর ঈদ যাত্রায় তেমন দুর্ভোগ হইবে না। পরিশেষে সকলের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন ও আনন্দময় হউক, ইহাই আমরা প্রত্যাশা করি।

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন