বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর বাঁশখালী উপকূলে ১২১টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ হয়েছিল। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন ২০১৮ সালে। ২০১৯ সালের জুন মাসে ৯টি জরাজীর্ণ আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায় এক কোটি ১০ লাখ চার হাজার ৬৫১ টাকা। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে আকস্মিক ঐসব আশ্রয়কেন্দ্রে সংস্কার শুরু হওয়ায় উপকূলবাসীর স্বস্তি ফিরেছে।
উপজেলা প্রকল্প অফিস সূত্রে জানা গেছে, সংস্কার করা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো হচ্ছে—উত্তর সরল রেড ক্রিসেন্ট আশ্রয়কেন্দ্র ১৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা, তোতকখালী রেড ক্রিসেন্ট আশ্রয়কেন্দ্র ১৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, খুদুকখালী রেড ক্রিসেন্ট আশ্রয়কেন্দ্র ১৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, বাহারছড়া রত্নপুর রেড ক্রিসেন্ট আশ্রয়কেন্দ্র ১৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, উত্তর বাহারছড়া রেড ক্রিসেন্ট আশ্রয়কেন্দ্র ১৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, বাংলাদেশ ইউনাইটেড হাইস্কুল ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ১৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, প্রেমাশিয়া হীড আশ্রয়কেন্দ্র ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, ছনুয়া নয়াপাড়া প্রশিকা আশ্রয়কেন্দ্র তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং মধ্যম বরঘোনা গন্ডামারা মাতব্বরপাড়া ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা মিলে সর্বমোট বরাদ্দ পান এক কোটি ১০ লাখ চার হাজার ৬৫১ টাকা।
ছনুয়ার তোতকখালী এলাকার বাসিন্দা আলী নবী ও মনোয়ারা বেগম বলেন, আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার কাজ হওয়াতে আমরা খুশি। বাহারছড়া রত্নপুর গ্রামের বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রভাবশালীরা আর গরুর গোয়ালঘর হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম মিয়াজী বলেন, ‘বরাদ্দ পাওয়া ৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে দরজা, জানালা, স্যানিটারি ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে, ছাদ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে বৃষ্টির পানি, নিচের ফ্লোরে হয়ে রয়েছে বিশাল বিশাল গর্ত ও কোথাও নেই রংয়ের প্রলেপ। কোনো কোনো ভবনে বরাদ্দের অতিরিক্ত কাজও করতে হচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে সংস্কার কাজ বরাদ্দ পাওয়ার পর এমপি মহোদয়ের নির্দেশে কাজের মান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদারকি করা হচ্ছে। ঠিকাদারের কোনো ধরনের দুর্নীতির হদিস পেলে এক টাকাও বিল প্রদান করা হবে না।’
বাঁশখালী সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘জলোচ্ছ্বাস, ঝড়, বৃষ্টি, তুফানে একমাত্র আশ্রয়স্থল আশ্রয়কেন্দ্র। এখানে কেউ দুর্নীতি করলে তাকে রেহাই দেওয়া হবে না।’
