ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর গাজাবাসী তীব্র দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়েছে। মানবিক সংকটের এই মুহূর্তে, বাংলাদেশের মাস্তুল ফাউন্ডেশনের মাস্তুল মেহমানখানা (মেগা কিচেন) সহ বিভিন্ন দেশের দাতব্য প্রতিষ্ঠান গাজাবাসীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।
অবরুদ্ধ গাজার প্রায় ১৫ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটে। তাদের সহযোগিতায় বাংলাদেশের মাস্তুল মেহমানখানা (মেগা কিচেন)। দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি বিদেশের মাটিতেও হাজারো প্রতিকূলতার মাঝে ফিলিস্তিনিদের খাদ্য সহায়তায় নিরলসভাবে কাজ করছে এই মেগা কিচেন টি । প্রতিদিন ২০০ - ২৫০ মানুষের রান্না হচ্ছে মাস্তুল মেহমানখানা (মেগা কিচেন) থেকে। আর এই রান্না খাবার পৌঁছে যাচ্ছে ফিলিস্তিনের গাজাবাসীদের কাছে। খাবার সংগ্রহ করতে যারা আসে তাদের অধিকাংশ এতিম শিশু ও বিধবা পরিবার।
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের অনেকেই মাস্তুল ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ কে ধন্যবাদ জানিয়েছে। তারা জানান, আমাদের খাদ্য রসদ শেষের পথে আমরা আমাদের কথা ভাবছি না ভাবছি আমাদের সন্তানদের। তারা কিভাবে ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করবে। ধন্যবাদ বাংলাদেশীদের আজকে তাদের জন্য আমাদের শিশুরা নিশ্চিতে ঘুমাবে।
কাজী রিয়াজ রহমান, প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক বলেন, মেহমানখানা (মেগাকিচেনের) কাজটি চলমান যতক্ষন না ফিলিস্তিনের গাজার পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসছে। আমরা সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করছি। প্রতিদিন ২০০-২৫০ খাবার খাদ্য সংকটের এই সময়ে খুবই অল্প পরিমান। আমাদের তহবিল সিমীত। চেষ্টা করছি তহবিল বৃদ্ধি পেলে আরো বড় পরিসরে কাজ করব।
ফিলিস্তিনে গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে মাস্তুল ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতেও গাজার জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গাজার পরিস্থিতি উন্নয়নে যে সকল কাজগুলো করার পরিকল্পনা রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- চিকিৎসা সেবায় পর্যাপ্ত মেডিকেল লজিস্টিকসের ব্যবস্থা, এতিম শিশুদের জন্য পড়াশোনার ব্যবস্থা, বিধবাদের স্বাবলম্বী করা, ল্যাট্রিন সুবিধা, পানি সুবিধা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সেবা, ল্যাট্রিন নির্মান, ফিলিস্তিনী শরণার্থীদের অস্থায়ী গৃহ নির্মাণে সহযোগিতা ও অনান্য ।
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আরো সহযোগিতা প্রয়োজন, বাংলাদেশের জনগনকে তারা উদার্ত আহবান জানিয়েছে, সবাই যেন এই গাজা বাসির জন্য এগিয়ে আসে।
