শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

নাবিকদের মুক্তি

ছালেহর অপেক্ষায় ৩ কন্যা, ফিরলেই রাজুর বিয়ে 

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ২১:৩২

ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজের জিম্মি ২৩ নাবিক মুক্তি পাওয়ায় তাদের পরিবারের স্বস্তি নেমে এসেছে। স্বজনরা এখন তাদের প্রিয়জনদের ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

মুক্তি পাওয়া ২৩ নাবিকের মধ্যে নোয়াখালীর দুই নাবিক মোহাম্মদ ছালেহ আহমেদ (৪৩) ও আনোয়ারুল হক রাজু (২৭)। এর মধ্যে রাজু নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ও ছালেহ আহমদ চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের সিংবাহুড়া গ্রামের বাসিন্দা। 

ঈদে বাড়িতে ফিরে রাজুর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। দুই ভাই-এক বোনের মধ্যে রাজু সবার ছোট। গত নভেম্বর মাসের শেষ দিকে রাজু সিঙ্গাপুর থেকে জাহাজে ওঠে। এরপর প্রথম রমজান থেকে ছেলের জিম্মি দশায় বদলে গেছে পরিবারের সব চিত্র। ঈদের দুই দিন পর রাজুর মুক্তিতে পরিবারে এখন আনন্দ বিরাজ করছে। দীর্ঘ একমাস পরে সুস্থভাবে জীবিত অবস্থায় মুক্তি পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা সরকার ও জাহাজ কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তারা প্রতীক্ষার প্রহর গুণছেন রাজুসহ সব নাবিক যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে আসতে পারে।    

রাজুর বাবা মাস্টার আজিজুল হক বলেন, ‘দীর্ঘ ৩২ দিন পর ছেলের মুক্তির খবরে আমরা পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরলাম। সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে ২৩ নাবিককে উদ্ধারে প্রদক্ষেপ গ্রহণ করায় অসংখ্য ধন্যবাদ। রাজু ফিরে এলেই তাকে বিয়ে দেওয়া হবে।’  

অপরদিকে স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে নাবিক ছালেহ আহমদের ছোট পরিবার। তিনিই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ছালেহ আহমদ গত বছর ঈদ করেছেন কর্মস্থলে। স্ত্রী ও তিন মেয়ের আশা ছিল এবারও তাদের সঙ্গে ঈদ করবেন তিনি। কিন্তু স্বামী জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়ার খবরে এলোমেলো হয়ে যায় স্বাভাবিক জীবন। তিন মেয়েকে নিয়ে অনেকটা বাকরুদ্ধ স্ত্রী তানিয়া আক্তার স্বামীর মুক্তির খবরে দারুন খুশি। এখন মেয়েদের নিয়ে স্বামীর ফিরে আসার প্রহর গুণছেন তিনি। তার মেয়েরাও বাবাকে দেখতে মুখিয়ে রয়েছে। 

ছালেহ আহমদের স্ত্রী তানিয়া আক্তার বলেন, ‘সরকারের কার্যকর ভূমিকায় জলদস্যুদের জিম্মি দশা থেকে বাংলাদেশি ২৩ নাবিকের মুক্তিতে আমাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন স্বামীর ফিরে আসার অপেক্ষায় আমরা।’ 

প্রসঙ্গত, গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে জিম্মি করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। জাহাজে ২৩ নাবিক ছিলেন। এখন তারা সবাই মুক্ত। 

ইত্তেফাক/ডিডি