আরো দুই আসামির স্বীকারোক্তি

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৯, ২২:১৯

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি চন্দন ও ৯ নম্বর আসামি মো. হাসান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হুমায়ুন কবির গতকাল শুক্রবার জানান, এর আগে চন্দন ও হাসানকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে রিফাত হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন তারা।

এর আগে এ মামলার ১১ নম্বর আসামি অলি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেফতার তানভীর স্বেচ্ছায় একই আদালতে রিফাত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর চন্দন ও হাসানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। ৩ জুলাই দ্বিতীয় আসামি রিফাত ফরাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ দিনই তার বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

মামলায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন—২ নম্বর আসামি রিফাত ফরাজী (২৩), ৪ নম্বর আসামি চন্দন (২১), ৯ নম্বর আসামি মো. হাসান (১৯), ১১ নম্বর আসামি মো. অলিউল্লাহ অলি (২২) ও ১২ নম্বর আসামি টিকটক হূদয় (২১)। এছাড়া রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন গ্রেফতাররা হলেন—মো. নাজমুল হাসান (১৯), তানভীর (২২), মো. সাগর (১৯), কামরুল হাসান সাইমুন (২১) এবং রাফিউল ইসলাম রাব্বি।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে নিয়ে বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে ফেরার      পথে মূল ফটকে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ দুর্বৃত্তরা রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন তারা। রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। আসামিরা রিফাত শরীফকে কুপিয়ে জখম করে চলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে উদ্ধার করে প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীসহ ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।