গতকাল দুপুরের পর থেকেই রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকা ঢেকেছিল মেঘে। সময় গড়িয়ে বিকাল হতেই হুট করে কালবৈশাখীর তাণ্ডব। সেই তাণ্ডবের সঙ্গে যেন মিল ছিল নাহিদ রানার বোলিং। বল হাতে ডিপিএলের ম্যাচে তুলে নিয়েছেন ৫ উইকেট। তাতে ম্যাচ জয়ের নায়ক বনে গেছেন ২১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার, পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কারও। দুর্দান্ত ফর্মের পরে নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন ডানহাতি এই পেসার।
গতকাল ডিপিএলের তিনটি ম্যাচই বৃষ্টির বাধায় পড়েছিল। তাতে ডিএলএস পদ্ধতিতে খেলা শেষ করতে হয়েছে। সাভারের বিকেএসপিতে রূপগঞ্জ টাইগার্স-সিটি ক্লাব ম্যাচে ৫ রানের জয় পেয়েছে শামসুর রহমান শুভর রূপগঞ্জ। ম্যাচটিতে ৯৩ বলে ১০৬ রান করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। গাজী গ্রুপ-ব্রাদার্স ইউনিয়ন ম্যাচে ১৩০ রানে জয় পেয়েছে গাজী গ্রুপ। আর মিরপুরে মোহামেডান-শাইনপুকুর ম্যাচে জয় পেয়েছে নাহিদ রানাদের শাইনপুকুর। এই ম্যাচে মোহামেডান হেরেছে ৬ উইকেটে। তাতে সুপার লিগ খেলা নিশ্চিত করতে আরো অপেক্ষা করতে হবে ইমরুল কায়েসদের।
শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে নাহিদ রানা বলেছেন, ‘দলকে জেতাতে পারলে একজন খেলোয়াড়ের সবসময় আনন্দ লাগে। সবমিলিয়ে খুব ভালো লেগেছে। সকালে উইকেটে একটু সহায়তা পাওয়া যাচ্ছিল, আমি সেটিই নেওয়ার চেষ্টা করেছি। বেশ জোরের ওপরে বল করেছি। সেগুলো খেলতে ব্যাটসম্যানদের একটু সমস্যা হচ্ছিল। সুতরাং এর বাইরে বেশি কিছু চিন্তা করিনি।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘জাতীয় দলে খেলার পরে অনেক মুহূর্ত সম্পর্কে বুঝতে পারছি। দুই জায়গা সম্পূর্ণ আলাদা। আমি যেহেতু জোরে বোলিং করি, অনেক সময় ব্যাটের কানায় লেগে দুই-চারটা বাউন্ডারি হয়ে যায়।
আমাকে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তুমি লাইন-লেন্থ মেনে বল করো, তাতেই হবে।’ ভবিষ্যৎ নিয়ে রানা বলেছেন, ‘আমি যখন ক্রিকেট খেলা শেষ করব তখন যেন বাংলাদেশের মানুষ জানতে পারে নাহিদ রানা নামে একজন পেস বোলার ছিল। স্বপ্ন আমার একটাই, বাংলাদেশের সব ফরম্যাটে খেলা এবং আমার দেশকে সর্বোচ্চটা দেওয়ার। ছোটবেলায় হাতে ফোন ছিল না। এলাকাতে একা একা বোলিং করতে করতে এ পর্যন্ত এসেছি। এখন লক্ষ্য রেখেছি যখন যেখানে সুযোগ পাব দলকে জেতানোর জন্য চেষ্টা করব।’
