রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

রেকর্ড ঝড়বৃষ্টির পর স্বাভাবিক হচ্ছে আরব আমিরাত 

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ১৭:৩৯

১৯৭১ সালে রাষ্ট্র গঠনের পর এই প্রথম রেকর্ড সর্বোচ্চ ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাতের সাক্ষী হল সংযুক্ত আরব আমিরাতবাসী। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে জানানো হয়, ১৯৪৯ সালের পর থেকে এইবারই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি রেকর্ড  হয়েছে এ দেশে।
 
মুষলধারে বৃষ্টি আর কালবৈশাখীর মতো ঝড় ও শিলাবৃষ্টির পর আরব আমিরাতে দেখা যায় জলাবদ্ধতা। দুবাই বিমানবন্দরসহ বেশ কিছু এয়ারপোর্টের ফ্লাইট চলাচল হয়ে পড়ে বন্ধ।


 
দুবাইয়ের রাস্তায় বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় আটকা পড়ে হাজারো গাড়ি, দোকান পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হয়ে পড়ে অচল। মেট্রোরেল স্টেশনে দেখা যায় হাঁটু সমান পানি। এমন কি মেট্রোরেল পথও হয়ে পড়ে বন্ধ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাজের তাগিদে বুকসমান পানিতে হেঁটে যেতে দেখা গেছে অনেক কর্মজীবীকে।

১৫ এপ্রিল সন্ধ্যা হতে শুরু হওয়া তুমুল এ ঝড় বৃষ্টিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইসহ পুরো আরব আমিরাতের অবস্থা একেবারে নাকাল হয়ে পড়ে। ৭৫ বছরের মধ্যে এ প্রথম মরুর দেশে দেখা দিয়েছে প্লাবনের মতো বন্যা। মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসার নগরী ব্যস্থ শহর হিসেবে পরিচিত দুবাইও হয়ে পড়ে বস্তুত স্থবির।

রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির পানিতে অচলাবস্থায় ছিল বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত দুবাই বিমানবন্দরসহ প্রায় সকল বিমানবন্দর সমূহ। বিমানবন্দরে ফ্লাইট উড়োজাহাজ অবতরণ করা ছিল অসাধ্য। অনেক দেশের সঙ্গে বিমান চলাচল ছিল স্থগিত। যার কারণে খুবই প্রয়োজন না হলে যাত্রীদের এয়ারপোর্টে না যেতেও অনুরোধ করে কতৃপক্ষ। বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিমান চলাচলের যেটুকু দৃশ্য দেখা গেছে তা দেখে মনে হতে পারে সমুদ্রের জলে ভাসমান জলযান চলে। 

তবে স্বস্তির বিষয় গতকাল ১৭ এপ্রিল বুধবার থেকে অবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। মানুষ কাজে যোগ দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানসমূহ খোলা শুরু করেছে। সরকার ও প্রশাসন অক্লান্ত পরিশ্রম করে সকল প্রকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের সহায়তায় আমিরাত সরকার বদ্ধপরিকর। এমন কি ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণে দেখা যাচ্ছে সচেষ্ট। এখনো যে সব স্থানে জলাবদ্ধতা আছে তা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা তীব্র থেকে তীব্র করছে। ভিন্ন ভিন্ন রোডের ডিরেকশন দিয়ে ফ্রিতে বাসের ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে। 

নানা স্থানে ঘুরে দেখা যায়, মানুষ কর্মমুখী হচ্ছে। নিজেদের বাসা বাড়ি কর্মস্থলে সচলতা নিয়ে আসতে শুরু করেছে। যে সকল স্থানে এখনো সমস্যা রয়ে গেছে সেসব স্থানের সরকারি অফিস বা প্রতিষ্ঠানকে রিমোট ওয়ার্ক (বাসায় বসে কাজ) করতে অনুরোধ বলবৎ রেখেছে। 

ইত্তেফাক/পিও