নবাবগঞ্জ পোস্ট অফিসের হতশ্রী দশা

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

বর্তমানে এই ডিজিটাল বাংলাদেশে সরকারের সেবামূলক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জনগণকে মানসম্মত আধুনিক সেবা প্রদান করা হচ্ছে। কিন্তু  দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পোস্ট অফিসগুলোর আধুনিকায়ন হয়নি। সেবার মানদণ্ডে তারা এখনো সেকেলেই রয়ে গেছে। অথচ পোস্ট অফিস এক সময় মানুষের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম ছিল। এর মাধ্যমে একসময় দেশের সিংহভাগ রাজস্ব আসত। বর্তমানে বিভিন্ন আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম চালু হওয়ায় পোস্ট অফিসের কদর কমে যায়। এমতাবস্থায় সরকার ফের মানুষকে বিভিন্ন  সুযোগ সুবিধা দিয়ে পোস্ট অফিসমুখী করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এতে করে মানুষ অর্থনৈতিক নানা সুবিধা পেতে দিন দিন পোস্ট অফিসের দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু অধিকাংশ পোস্ট অফিসে বাড়েনি আধুনিক সুযোগ সুবিধা, রয়েছে লোকবল সংকট, আসবাবপত্র ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবও প্রকট। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় পোস্ট অফিসে এই সবগুলো সমস্যা বিদ্যমান। পোস্ট অফিস ভবনটি সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এছাড়া রয়েছে নিরাপত্তার অভাব। সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কার্যক্রম চালাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জানা যায়, ১৯৭৫ সালে নবাবগঞ্জ পোস্ট অফিসটি স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠার সময় এটি টিনকাঠের ঘর ছিল। ১৯৮০’র দশকের প্রথম দিকে পাকাভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর কয়েকবার মেরামত ও চুনকাম করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এরইমধ্যে জীর্ণ ভবনের কলামে ফাটল ধরেছে। দেয়ালের অনেক স্থানে পলেস্তারা ফুলে আছে। দরজা, জানালাগুলোও পুরনো। ভেতরে পুরনো কাঠ ও স্টিলের ভাঙা আসবাবপত্রে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে জরুরি কাগজপত্র। অফিস ভবন প্রধান সড়কের পাশে হলেও সীমানা প্রাচীর নেই। এতে অনেকেই পোস্ট অফিসে প্রবেশ করে ব্যবসার মালামাল রাখছে। কেউ বা গাড়ি পার্কিং করছে। বাজারের কাঁচামাল রেখে পরিবেশ নোংরা করে ফেলছে। আর রাতে পুরো অফিস এলাকা মাদক সেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে অফিস করতে বাধ্য হচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে, সড়ক উঁচু করায় অফিস ভবনসহ উঠান নিচু হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই উঠানে হাঁটু পানি জমে যাচ্ছে। অতি বৃষ্টি হলে অফিস কক্ষে পানি ঢুকে কাগজপত্র ভিজে যাচ্ছে।

পোস্ট অফিস সূত্র জানায়, বর্তমানে সেখানে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকের সংখ্যা ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার, এফডিআর ২ থেকে ৩ হাজার এবং সেভিংস গ্রাহক দেড় হাজারের বেশি। জনবল কম থাকায় প্রতিদিনই গ্রাহকদের ভিড় সামলাতে হিমসিম খেতে হয় কর্মকর্তাদের। বলমন্তচরের গ্রামের সওকত হোসেন বলেন, পোস্ট অফিসে যে কয়জন কর্মচারী আছে লোকের ভিড়ে তারা সময়মত মানুষকে সেবা দিতে পারছেন না। কর্তৃপক্ষের উচিত এখানে লোকবল বাড়ানো এবং সেই সাথে অফিসকে আরো আধুনিকায়ন করা। পোস্ট অফিসে সেবা নিতে আসা সালমা বেগম বলেন,  প্রতিদিন এখানে লাখ লাখ টাকা লেনদেন হচ্ছে অথচ নিরাপত্তা কর্মী নেই।

পোস্টমাস্টার মো. মাসুদ খান জানান, প্রতিদিন দুই শতাধিক গ্রাহক লেনদেন করেন। নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে অফিস করতে হয়।

পোস্টমাস্টার আরও জানান, বর্তমানে সেখানে তিনিসহ ১১ জন কর্মরত। ভিড় সামাল দিতে আরো দুইজন পোস্টাল অপারেটর জরুরি। এছাড়া এই আধুনিক যুগেও পুরনো যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রে কাজ করতে হয়। নিরাপত্তার জন্য নেই গানম্যান। এসব বিষয় উল্লেখ করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত ঢাকা বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. তারিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আশাকরি আগামী অর্থবছরের মধ্যে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।