বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বিপ্লব স্পন্দিত বুকে লুনিন

চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিতে রিয়াল-বায়ার্ন

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১৭:১৯

তারুণ্যের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ভ্লাদিমির লেনিনের সাম্যবাদী চেতনায় প্রভাবিত হয়ে বলেছেন, ‘বিপ্লব স্পন্দিত বুকে, মনে হয় আমিই লেনিন।’ সেই লেনিনের নামের সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের অতন্দ্র প্রহরী আন্দ্রিয়ে লুনিনের। আবার এখানে চমকপ্রদ আরেকটি বিষয়ও রয়েছে। লুনিন ইউক্রেনের ফুটবলার, যেখানে লেনিন ছিলেন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন নেতা। এখন সোভিয়েত ইউনিয়ন নেই, রয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেন-রাশিয়ার সম্পর্ক দা-কুমড়ার মতো চললেও লেনিন আর লুনিন যেন মিশে গেলেন একই বৃন্তে। 

বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বুক চিতিয়ে যেভাবে লড়াই করেছেন রিয়াল গোলরক্ষক, তাতে সেটিকে লেনিনের বিপ্লব স্পন্দিত বুকের সঙ্গে তুলনা না করে উপায় কোথায়! ম্যানচেস্টার সিটির ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা জায়গা করে নিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ চারে। এর আগে কখনোই সিটির মাঠে জয় পায়নি রিয়াল মাদ্রিদ। তাতে ইতিহাসে নাম লেখানোর অংশ হয়ে গেছেন লুনিন। এ দিকে আর্সেনালের ১৪ বছরের অপেক্ষাকে আরো দীর্ঘ করে সেমি নিশ্চিত করেছে বায়ার্ন মিউনিখ। চার বছর পরে জার্মান ক্লাবটি উঠল শেষ চারে।

সিটি-রিয়ালের প্রথম লেগে ৩-৩ গোলের সমতা নিয়ে দ্বিতীয় লেগ শুরু করেছিল দুদল। ম্যাচের ১২ মিনিটে রদ্রিগোর গোলে রিয়াল এগিয়ে গেলেও ৬৪ মিনিট পরে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। তাতে খেলা নির্ধারিত সময় শেষে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়ায়। কিন্তু সেখানেও কোনো ব্যবধান না আসায় টাইব্রেকারে অংশ নেয় দুদল, যেখানে মাতেও কোভাসিচ ও বের্নান্দো সিলভার শট ঠেকিয়ে ইতিহাসে নিজের নাম লেখান লুনিন। এই ম্যাচে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে ইউক্রেনের এই ফুটবলারকে। সিটির একের পর এক আক্রমণ যেভাবে সামলেছেন তাতে অবাক হয়েছেন খোদ রিয়াল ভক্তরাও। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লুনিনের রক্ষণ শক্ত হয়েছে জ্যামিতিক হারে। শেষ পর্যন্ত তার দক্ষতায় আনচেলত্তি বাহিনীর অবসান হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার।

ম্যাচ শেষে লুনিন বলেছেন, ‘আমার বলার কিছু নেই। আমি এই জয়ের নায়ক নই, এই জয়ের জন্য পুরো দল দারুণ কাজ করেছে। ১২০ মিনিট ধরে সবাই অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। আমি তো পাঁচ মিনিটের জন্যও তা করতে পারিনি।’ টাইব্রেকারের শট ঠেকানো নিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের ঝুঁকি নিতে হয়েছিল এবং আমরা বের্নান্দো সিলভাকে বেছে নিয়েছিলাম। সৃষ্টিকর্তার কাছে ধন্যবাদ যে, আমরা সফল হয়েছি।’ 

লুনিন আরও বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে আমার নজর সামনের খেলাগুলোর প্রতি। আপাতত ভালোভাবে চলতি মৌসুম শেষ করতে চাই। আমি সবসময় কাজ করে যাচ্ছি, বেশি কথা বলছি না। আমার পথে আসা সুযোগগুলোকে কাজে লাগাতে চেষ্টা করছি এবং সেজন্য শেষ পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে যাব।’ 

কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেছেন, ‘সকলে ভেবেছিলেন আমরা মরে গেছি। কিন্তু কেউই সেটা করতে পারবে না, রিয়াল মাদ্রিদ কখনো মরে না। এর আগে এমন কাজ আমরা বহুবার করেছি। শুটআউটের সময়েই ভেবেছিলাম আমরা পরের পর্বে যাব। আর সেই কাজটি সহজ করে দিয়েছে আন্দ্রিয়ে, দুর্দান্ত খেলেছে সে।’

ঘরের মাটিতে মুহুর্মুহু আক্রমণ করেও ব্যর্থ সিটি। রিয়ালকে মধ্যমাঠের মধ্যে বন্দি করেও কাজের কাজটি আদায় করে নিতে পারেননি পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। ম্যাচ শেষে সিটি বস বলেছেন, ‘আমরা প্রায় সবকিছুই করেছি, কিন্তু জিততে পারিনি। এভাবে হেরে যাওয়ার কোনো ব্যাখ্যা নেই। চমত্কার খেলেও হারের ব্যথা একটু বেশি তীব্র হয়। আমাদের নিজেদেরকে আরও ওপরে তুলতে হবে, আরও চেষ্টা করতে হবে। আমি জানি না আমরা আরও কী করতে পারতাম। তবে আমরা রিয়ালকে যেভাবে কোণঠাসা করেছি সেটি এক কথায় অসাধারণ। এমন একটি দলকে এভাবে কেউ আটকাতে পারে না, আমরা তা করে দেখিয়েছি।’ নাচোও স্বীকার করেছেন সিটির ক্ষিপ্রতার কথা। রিয়াল মাদ্রিদের এই ডিফেন্ডার বলেছেন, ‘ঐ রাতে আমাদের বেশ ভুগতে হয়েছে। সিটি সত্যিই আমাদের অনেক চাপে রেখেছিল। আমরা সাধারণত এভাবে ভুগতে অভ্যস্ত না।’

এ দিকে কোয়ার্টার ফাইনালের অপর ম্যাচে গানারদের হারিয়ে শেষ চারে রিয়ালের প্রতিপক্ষ হয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। আর্সেনাল-বায়ার্ন প্রথম লেগে ২-২ সমতা নিয়ে খেলা শেষ করেছিল। দ্বিতীয় লেগে একমাত্র গোলটি করেন জশুয়া কিমিখ। তাতে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ অগ্রগামিতায় জার্মান ক্লাবটি পৌঁছে যায় শেষ চারে। হারের পরে বার্সেলোনার মতো আর্সেনালও পেয়েছে দুঃসংবাদ। আগামী বছরের ক্লাব বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না দলটির। মিকেল আরতেতার শিষ্যদের ব্যর্থতায় কপাল খুলে গেছে অস্ট্রিয়ান ক্লাব আরবি সালজবার্গের। ক্লাব বিশ্বকাপে ইউরোপ থেকে ১২ দল চূড়ান্ত হয়ে গেল এরই মধ্য দিয়ে। দলগুলো হলো—ম্যানচেস্টার সিটি, রিয়াল মাদ্রিদ, চেলসি, বায়ার্ন মিউনিখ, পিএসজি, ইন্টার মিলান, পোর্তো, বুরুসিয়া ডর্টমুন্ড, বেনফিকা, জুভেন্তাস, আতলেটিকো মাদ্রিদ এবং সালজবার্গ।

ইত্তেফাক/জেডএইচ