সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

নাটোরে প্রার্থীকে অপহরণ

আওয়ামী লীগ নেতার গাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধার, হয়নি মামলা

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১৭:১৬

নাটোরে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস থেকে নানা সরঞ্জাম ও অস্ত্র পাওয়া গেছে। এসবের মধ্যে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা লুৎফুল হাবীবের নির্বাচনী লিফলেট, প্রচারপত্রও ছিল। কিন্তু মাইক্রোবাসটির ভেতর থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে কোনো মামলা হয়নি।

এর আগে গত ১৫ এপ্রিল বিকালে প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন অনলাইনে দাখিল করা মনোনয়নপত্রের অনুলিপি নাটোর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে জমা দিতে যান। সেখান থেকে প্রতিমন্ত্রী ও তার শ্যালক লুৎফুল হাবীবের ঘনিষ্ঠরা দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণ ও নির্যাতন করে অচেতন অবস্থায় নিজ বাড়ির সামনে ফেলে যায়। ওই দিন দুপুরে আরও দুইজনকে অপহরণ করা হয়। পরে দেলোয়ারকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। 

এ ঘটনায় দেলোয়ারের ভাই মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ ২ জনকে গ্রেপ্তার করে। এরমধ্যে এক আসামির আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগ নেতা লুৎফুল হাবীবের ঘনিষ্ঠজনদের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসে।

পরে শনিবার সন্ধ্যায় সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের দুর্গম চকপুর গ্রামের আতাউর রহমানের বাড়ি থেকে ওই মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়। অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আতাউর রহমানকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

নাটোরের পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, মাইক্রোবাসটি একটি ঘরের মধ্যে লাকড়ি দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল। ওই বাড়িটি প্রতিমন্ত্রীর শ্যালক আওয়ামী লীগ নেতা লুৎফুল হাবীবের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের একজন ব্যবস্থাপকের। এ সময় মাইক্রোবাস থেকে লুৎফুল হাবীবের নির্বাচনী প্রচারপত্র, পোস্টার, লিফলেট পাওয়া গেছে জব্দ করা মাইক্রোবাস। 

এ সময় মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে গাড়ির মালিকানা (লুৎফুল হাবীবের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অর্ক ট্রেডার্স) ও চালকের লাইসেন্স, ২টি চায়না চাপাতি, ১টি চায়না টিপচাকু, ১টি বার্মিজ কাটার, ২টি রামদা, ২টি স্টিলের পাইপ, ২টি স্ট্যাম্প ও দেশে তৈরি ১টি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ওই গাড়ির ভেতর থেকে লুৎফুল হাবীবের নির্বাচনী প্রচারপত্র, পোস্টার, লিফলেট ও ছবিযুক্ত ক্যালেন্ডারও উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশ সুপার জানান, ওই মাইক্রোবাস থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র নাটোর সদর থানায় হওয়া মামলার আলামত হিসেবে জব্দ তালিকায় দেওয়া হয়েছে। এসব অস্ত্র বর্তমানে সদর থানায় সংরক্ষিত আছে। গত রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিংড়ার নেঙ্গুইন এলাকা থেকে আরও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। ওই মাইক্রোবাসটিও অপহরণের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল।

সিংড়া উপজেলা এলাকার মধ্যে অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় আইন অনুযায়ী ওই থানায় পৃথক মামলা হওয়ার কথা। সিংড়া থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনে কোনো মামলা হয়নি।
 
সিংড়া থানার ওসি আবুল কালাম জানান, নিয়ম অনুযায়ী সদর থানার অপহরণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদী হয়ে সিংড়া থানায় এজাহার দেওয়ার কথা। কিন্তু তিনি এ ধরনের কোনো এজাহার পাননি। তাই নিজেরা বাদী হয়েও মামলা করেননি।

নাটোর সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে দেশীয় অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো অপহরণ মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এবি