উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার নামে প্রতারণা: র‌্যাবের অভিযানে আটক ৮

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১৯:৫৩

রাজশাহীতে শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার কথা বলে ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনায় ৮ প্রতারককে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব সদস্যরা। র‌্যাব-৫, ৪, ৮, ১০, ১১ ও ১৪ এর সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে ঢাকা, জামালপুর, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও ফরিদপুর থেকে তাদের আটক করে। 

সোমবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে র‌্যাব-৫, রাজশাহীর সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। 
 
র‌্যাব-৫, রাজশাহীর অধিনায়ক লে. কর্নেল মুনিম ফেরদৌস জানান, গত ২৪ মার্চ সকালে রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান এলাকার এক ব্যক্তির (বাদী) মোবাইলে অজ্ঞাতনামা মোবাইল থেকে ভিকটিমের মেয়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাউন্টেট মিজানুর রহমান পরিচয় দিয়ে জানান, আপনার মেয়ের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ-প্লাস পাওয়ায় শিক্ষা উপবৃত্তির ২২ হাজার ৫০০ টাকা এসেছে। এই টাকা বাদীর এটিএম একাউন্টে পাঠানো হবে, জানিয়ে ব্যাংকের এটিএম কার্ডের ১৬ ডিজিটের নম্বর দিতে হবে। তিনি সরল বিশ্বাসে তার এটিএম কার্ডের ১৬ ডিজিটের নম্বর দেন।
 
এ সময় তাকে জানানো হয় যে, তার মোবাইল ফোনে একটি ওটিপি নম্বর যাবে। সেটি তাকে দিতে হবে। তবে এমনটি করার পর টাকা তো আসেইনি উল্টো বাদী তার মোবাইলের এসএমএস অপশনে গিয়ে দেখতে পান তার অ্যাকাউন্ট থেকে চার দফায় ১ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনা বাদী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর র‌্যাব-৫, রাজশাহী মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে।

র‌্যাব রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়ায় অভিযান চালিয়ে শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার নাম করে ক্রেডিট কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণায় জড়িত শামীম হোসেনকে (২৯) আটক করে। শামীম টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা। আটক শামীমের তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৫, রাজশাহীর সদস্যরা রাজধানী ঢাকার আশুলিয়া থানার একটি বাড়িতে অভিযান চালান। তারা সেখান থেকে র‌্যাব বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির সিমকার্ডসহ বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন। 

এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে শামীম জানায়, প্রতারণা চক্রের সদস্য ফরিদপুরের মৃত জয়নুদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ জিহাদ (৩৪) বর্তমানে জামালপুরে অবস্থান করছে। পরে জিহাদকে বিপুল পরিমাণ সিমকার্ডসহ জামালপুর সদর থেকে আটক করা হয়।  

জিজ্ঞাসাবাদে আটক জিহাদ ও শামীম ব্যাবকে জানায়, এই চক্রের সদস্য কুমিল্লার কাজী তাজলু ইসলামের ছেলে কাজী সাদ্দাম হোসেন ওরফে আমির হামজা (২৬) বিভিন্ন নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত সিমকার্ডগুলো সংগ্রহ করে তাদের দেয়। পরে র‌্যাব সদস্যরা আমির হামজাকে কুমিল্লার হোমনা থেকে আটক করে। এরপর তার তথ্যের ভিত্তিতে একটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সিমকার্ড কেনাবেচায় নিয়োজিত গোপালগঞ্জের আব্দুল গাজীর ছেলে আহাদ গাজীকে (২৪) নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক করে র‌্যাব। আটক জিহাদ ও শামীমের তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদপুরের জয়নাল ফকিরের ছেলে ফিরোজ রহমান ওরফে জয়কে (২৬) ঢাকার কাফরুল থেকে আটক করে র‌্যাব। তার তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে খোকন মোল্লার ছেলে বাপ্পি মোল্লাকে (২০) আটক করে র‌্যাব। তাদের তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় চক্রের মূলহোতা ফরিদপুরের দেলোয়ার হাওলাদারের ছেলে জাকির হোসেন হাওলাদার (৪৭) ও এবাদত মোল্লার ছেলে উসমান গণি মোল্লাকে (৩৩) ভাঙ্গা থেকে আটক করে র‌্যাব।
 
র‌্যাব-৫, রাজশাহীর অধিনায়ক লে. কর্নেল মুনিম ফেরদৌস আরও জানান, অভিযানে আটকদের কাছ থেকে ২৩টি মোবাইল, ৩১০টি সিমকার্ড, নগদ তিন লাখ এক হাজার ২৭০ টাকা ও ৯টি ব্যাংক লেনদেনের স্লিপ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও আশুলিয়া এবং ডিএমপির ডেমরা ও ক্যান্টনমেন্ট থানায় পৃথক জিডি ও মামলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটকদের পুলিশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

ইত্তেফাক/পিও