ব্রিটেনে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৯, ০৫:১৮

সোশ্যাল মিডিয়ার রাশ টেনে ধরার চেষ্টা চলছে অনেক দেশেই। সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে এখন তোলপাড় সারা দুনিয়ায়। যে কেউ কোনো বিষয়ে যা খুশি বলে দিতে পারে সোশ্যাল মিডিয়ায়, আইনের বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে। বিবিসি। 

কিছুদিন আগে নিউজিল্যান্ডে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসবাদী হামলা চালিয়ে ৫০ জনকে হত্যার ঘটনা যেভাবে ফেসবুকে লাইভ স্ট্রিমিং করা হলো, সেটা নিয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ধিক্কার উঠেছে বিশ্বজুড়ে। 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এখন চেষ্টা চলছে কীভাবে বড়ো বড়ো সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বেপরোয়া কাজকর্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যায়। এটিকে আবার অনেকে দেখছেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের চেষ্টা হিসেবে।

সোশ্যাল মিডিয়া মানুষকে এখন মতপ্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছে। অনেক দেশেই কর্তৃত্ববাদী সরকার সেটা পছন্দ করছে না। কাজেই এ ধরনের আইন করার পেছনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করার অভিসন্ধি দেখছেন অনেক সমালোচক। 

ফেসবুক বা ইউটিউবের মতো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফরমগুলো এতদিন ধরে দাবি করে এসেছে যে, তাদের প্রতিষ্ঠানে এক ধরনের ব্যবস্থা চালু আছে, যেখানে তারা নিজেরাই আপত্তিকর বিষয়বস্তু সরিয়ে নেন। ইউটিউব দাবি করে, তাদের সাইটে যখন কোনো আপত্তিকর কনটেন্ট দেওয়া হয়, তারা সেটি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। সমালোচকরা এসব আইনকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকোচন হিসেবে দেখছেন।

ব্রিটেন:

সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব করেছে। এর উদ্দেশ্য, ক্ষতিকর কোনো ‘কনটেন্ট’ কোনো সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পেলে তার জন্য কোম্পানির কর্মকর্তাদেরও যেন দায়ী করা যায়।

ব্রিটিশ সরকারের প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নিয়ম ভঙ্গকারী সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের জরিমানা থেকে শুরু করে তাদের সেবা পুরোপুরি বন্ধ বা ব্লক করে দেওয়ার কথাও রয়েছে। ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার থেকে শুরু করে নানা ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া যারা ব্যবহার করেন, তাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকার একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের কথা ভাবছে। এর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে এজন্য আলোচনা-পরামর্শ গ্রহণ চলবে আগামী ১লা জুলাই পর্যন্ত। ব্রিটেনের বর্তমান আইনে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। 

আরো পড়ুন: মুসলিম বিদ্বেষ নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে সতর্কবার্তা ওআইসির 

ব্রিটিশ সংস্কৃতিমন্ত্রী মারগট জেমস বলছেন, এই অবস্থান পরিবর্তন দরকার। তিনি চান, ব্রিটেনে এমন আইন তৈরি করা হোক, যাতে করে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলো বাধ্য হয় এরকম অবৈধ কনটেন্ট সরিয়ে নিতে।

ইত্তেফাক/এসআর