বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

সংস্কারের অভাবে আশাশুনির বেড়িবাঁধ হুমকিতে

টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:০০

প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে হুমকির মুখে রয়েছে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট গ্রামের বেড়িবাঁধ। এটি সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগ-২-এর আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের আওতাধীন। খোলপেটুয়া নদীর প্রবল জোয়ারের তোড়ে প্রতিনিয়ত ভাঙছে এই বেড়িবাঁধ। যে কোনো মুহূর্তে জরাজীর্ণ এটি ভেঙে প্লাবিত হতে পারে বিস্তীর্ণ এলাকা। ফলে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে বিছট গ্রামের বাসিন্দাসহ আশপাশের গ্রামে বসবাসকারিরা।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে হাজরাখালী খেয়াঘাটগামী খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধের ভাঙন দীর্ঘদিনের। নদী ভাঙনরোধে কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় প্রায় দুই দশক ধরে ভাঙছে এই বেড়িবাঁধ। খোলপেটুয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিছট গ্রামের শতাধিক মানুষ গৃহহারা হয়ে গ্রামের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বেড়িবাঁধের ওপর টংঘর বেঁধে বসবাস করছেন। বসতবাড়ি ও ধানের জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার। অনেকে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। বেড়িবাঁধ সরিয়ে নিতে নিতে গ্রামের অর্ধেকের বেশি চলে গেছে নদীগর্ভে। নদী ভাঙনে বিছট গ্রামের গাজীবাড়ি মসজিদ, মোড়লবাড়ি জামে মসজিদ, এফতেদায়ী মাদ্রাসা, এতিমখানা ও সরকারি পুকুরসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। সঠিকভাবে সংস্কার না করায় পাউবোর বেড়িবাঁধটি জরাজীর্ণ হয়ে বর্তমানে রিংবাঁধে পরিণত হয়েছে। নদীর প্রবল জোয়ারের চাপ বা জোয়ারের সময় দমকা হাওয়া বা ঝড় বৃষ্টি হলেই যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে জরাজীর্ণ এ বেড়িবাঁধ। এর ফলে প্লাবিত হতে পারে প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা ও পার্শ্ববর্তী বড়দল ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে সংস্কারের নামে সাধারণ মানুষের রেকর্ডিয় জমির মধ্য দিয়ে বিকল্প বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বিছট গ্রামের নদী রক্ষা বাঁধ আবারও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে এক সময় বিছট গ্রাম উপজেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

স্থানীয়রা আরো বলেন, ‘আমরা ত্রাণ বা অনুদান চাই না, চাই নদীর ভাঙনরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ। তা না হলে প্রতি বছর যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বা ঘুর্ণিঝড়ে নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি নদীর জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে একাকার হয়ে যাবে। পানিবন্দি হয়ে পড়বে উপজেলার চার ইউনিয়নের মানুষ।’

জেলা পরিষদের সাবেক মেম্বর মো. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে ভাঙছে বিছট গ্রামের পাউবোর বেড়িবাঁধ। অব্যাহত নদী ভাঙনে গ্রামের শতাধিক মানুষ গৃহহারা হয়েছে। শতাধিক বিঘা ফসলি জমি চলে গেছে নদীগর্ভে। মাঝে মধ্যে নামমাত্র সংস্কার করা হয়। তিনি নদীর অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির ওপর দিয়ে স্থায়ী, টেকসই নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুর রহমান বলেন, ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পত্র পাঠানো হয়েছে। অতি দ্রুতই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/এমএএম