আগামী ৯ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সকল অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (১২ মে) থেকে সকল অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও তবে, শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান করতে পারবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৩ তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এদিন বিকাল ৫টার মধ্যে ছাত্রদের এবং ২৬ এপ্রিল সকাল ১০টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই ঘোষণার পরপর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আটকে থাকা শাহ আমানত পরিবহনের দুটি বাসে আগুন এবং একাডেমিক ভবন ও এডমিনিস্ট্রেশন ভবনে তালা দিয়ে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে হল ভ্যাকেন্ট ও একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় সিন্ডিকেট সভায় এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তবে, চুয়েট প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদের একজন দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের দাবিগুলো পূরণ হয় নি। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। অনির্দিষ্টকালের জন্য আমরা সকল অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করছি। নিজের মধ্যে আলোচনা শেষে আন্দোলনের পরবর্তী ঘোষণা দেব।
এর আগে গত সোমবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে চুয়েটের দুই শিক্ষার্থী শান্ত সাহা ও তাওফিক হোসাইন বাসের ধাক্কায় নিহত হন। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন চুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরদিন সকাল ১০টার দিকে তারা চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে অবস্থান নেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বাস চাপায় চুয়েটের দুই শিক্ষার্থী নিহতের জেরে লাগাতর ৪ দিন চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক অবরোধ, এডমিনিস্ট্রেশন ভবন, একাডেমিক ভবন, ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে তালা, ভিসিকে অবরুদ্ধ, শিক্ষককে লাঞ্ছিত, তিনটি বাসে আগুনসহ নানা ঘটনার মধ্যে সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে চুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন।
