তীব্র তাপপ্রবাহে বিপাকে মুরগি খামারিরা

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৪, ০২:০০

টানা তীব্র তাপপ্রবাহে পোলট্রি শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে প্রায় প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে খামারের মুরগি। কমতে শুরু করেছে ডিম ও মাংসের উৎপাদন। এতে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, টানা ১০ দিন ধরে দিনের বেলা চাটমোহরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর থাকছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে হিটস্ট্রোকে মারা যাচ্ছে পোলট্রি খামারের মুরগি। কমতে শুরু করেছে মাংস ও ডিমের উৎপাদন। খামারিরা জানান, মুরগি রক্ষায় খামারের ঘর সার্বক্ষণিক শীতল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। দিনে চার-পাঁচ বার পানি স্প্রে করছেন। এছাড়া মুরগি বাঁচানোর জন্য স্যালাইনসহ বিভিন্ন ওষুধ খাওয়াচ্ছেন।

তারা আরও জানান, এ অবস্থায় ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম কমে গেছে। প্রতি পিস ডিমে তাদের প্রায় দুই টাকা করে লোকসান হচ্ছে। একটি ডিম উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ১০ টাকা, সেখানে বিক্রি হচ্ছে আট থেকে সাড়ে আট টাকায়। খামারে উৎপাদিত ব্রয়লার মুরগির দামও কমেছে। এক কেজি ব্রয়লার উৎপাদনে খরচ হয় ১৭০ টাকা, সেখানে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। কেজিতে ২০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে তাদের দাবি। এ অবস্থা আরও কয়েক দিন থাকলে পোলট্রি শিল্পে ধস নামবে।

চাটমোহর উপজেলা পোলট্রি খামার মালিক সমিতির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বললেন, গরমে পোলট্রি শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। মুরগি হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। তার নিজের খামারের ৮০০ মুরগি মারা গেছে। চাটমোহর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার সরকার বলেন, প্রচণ্ড গরম থেকে খামার রক্ষায় প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে লিফলেট বিতরণসহ খামারিদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। খামার ঘরের টিনের চালে চটের বস্তা বিছিয়ে পানি ঢালা, মুরগির শরীরে পানি ছিটানো এবং মুরগিকে স্যালাইনসহ ভিটামিন সি জাতীয় খাবার বেশি খেতে দিতে বলা হচ্ছে। তিনি জানান, মুরগি মারা যাওয়ার বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছি। তবে, কোনো সঠিক তথ্য আমাদের কেউ জানায়নি।

ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, খামারগুলোতে পানি ছিটানোসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার পরও ঠেকানো যাচ্ছে না মুরগির মৃত্যু। এতে বিপাকে পড়েছে উপজেলার প্রায় ছয় শতাধিক পোলট্রি খামারি। উপজেলার দৌলা গ্রামের পোলট্রি খামারের শ্রমিক রফিকুল ইসলাম জানান, গরম শুরুর পর থেকেই খামারে মুরগির ছটফটানি শুরু হয়েছে। ফ্যানের বাতাসেও ঘর ঠাণ্ডা হচ্ছে না। প্রতিদিন বেশ কয়েক বার মুরগির শরীরে পানি ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এরপরও মুরগিগুলো মারা যাচ্ছে।

উপজেলার আঙ্গারগারা বাজারের পোলট্রি ব্যবসায়ী শহিদুল শিকদার জানান, তার ১৫০টি শেডে ব্রয়লার মুরগির সংখ্যা প্রায় ২ লাখ। প্রতিদিন হিট স্ট্রোকে ১০০০-১২০০ মুরগি মারা যাচ্ছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মতিউর রহমান জানান, খামারের তাপমাত্রা নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখতে হবে। হিট বেশি হলে মুরগি মারা যাবে এটাই স্বাভাবিক। তাই শেডগুলোতে ঠাণ্ডা পানি ছিটাতে হবে, টিনের নিচে সিলিং দিতে হবে, মুরগিকে স্যালাইন খাওয়াতে হবে এবং ফ্যান দিয়ে বেশি বেশি করে বাতাস দিতে হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম