বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় আবহাওয়া অফিসের সতর্ক বার্তা, হাওরপাড়ে দুশ্চিন্তা

আপডেট : ০৩ মে ২০২৪, ০৯:৫৪

সিলেট অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল বোরো ধান। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার বোরোর বাম্পার ফলনও হয়েছে। চাষিরা এ বছর মধ্য বৈশাখ পর্যন্ত অনেকটা নির্বিঘ্নে প্রকৃতি নির্ভর এই বোরো ফসল ঘরে তুলতে পারছেন। কিন্তু শুক্রবার (৩ মে) থেকে রোববার (৫ মে) পর্যন্ত সিলেট অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি, বজ্র বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল নামার আশঙ্কা ব্যক্ত করে আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক বার্তা দিলে কৃষকসহ এলাকাবাসী দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ২০১৭ ও ২০২২ সালে দুটি ভয়াবহ বন্যায় সিলেট অঞ্চলের মানুষকে বিপন্ন করে তুলেছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রে নির্বাহী প্রকৌশলী উদয় রায়হান বুধবার (১ মে) এক বার্তায় জানান, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সকল নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাবে। উজান থেকে নেমে আসা ভারী বৃষ্টিপাতে সুরমা নদীর কানাইঘাটের লোভা ছড়া, গোয়াইন নদীসহ সিলেটের চার জেলার নদনদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। 

এদিকে এরই মধ্যে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন নদীর পানি বাড়ছে। এ অবস্থায় কৃষি বিভাগ, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য ১৫ লাখ টাকা ও ১০ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেটের জন্য আবেদন জানিয়েছে।

২০২২ সালের পাহাড়ি ঢলে বিপন্ন হয়ে উঠেছিল হাওরবাসীদের জীবনযাত্রা। (সংগৃহীত ফাইল ছবি)

সিলেট বিভাগের চার জেলার বোরো ফসল স্থানীয়ভাবে খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ধান জাতীয় খাদ্যভাণ্ডারে যোগ হয়। তাই সিলেটের বোরো ধানের জন্য মুখিয়ে থাকে সারাদেশ। সিলেটের কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার সিলেটে বিভাগে ২০ লক্ষ ২২ হাজার ৯৮১ মে.টন ধান কৃষকের গোলায় উঠার কথা। 

এদিকে প্রশাসন বন্যা, ঢলসহ দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলায় জেলায় সতর্কতা ও প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রশাসন সভা-সমিতির মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের সব ধরণের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দিয়েছে। বিশেষ করে কৃষি বিভাগ সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, নেত্রকোণা এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও বন্যা থেকে ফসল রক্ষার জন্য ৮০ ভাগ ধান পাকলেই ধান কেটে ঘরে তোলার জরুরি পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া বৃষ্টি ও বন্যা থেকে মাঠের অন্যান্য ফসল রক্ষায়ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন।

সুনামগঞ্জে ৯৭ ভাগ বোর ধান কাটা শেষ।

সিলেট বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ইত্তেফাককে জানায়, ধান দ্রুত কেটে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার জন্য তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে। তাছাড়া সিলেটের চার জেলার হাওরে ৯৩ ভাগ, নন হাওরে ৪০ ভাগসহ মোট ৭০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। তারা আশা করছেন হাওরে ঢল নামার আগেই সব ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। 

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম ইত্তেফাককে বলেন, ‘সুনামগঞ্জে ৯৭ ভাগ বোর ধান কাটা শেষ। এখন যে ধান আছে দ্রুত কেটে নিয়ে আসতে হবে। জেলার ছোট-বড় ১৩৭টি হাওরে এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৪০৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৩ লাখ ৭০ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য ৪ হাজার একশ ২ কোটি টাকা।

ধান উৎপাদনে এবারের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৩ লাখ ৭০ হাজার ২০০ মেট্রিক টন।

এদিকে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার (২ মে) দুপুরে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আগাম বন্যার পূর্ব প্রস্তুতি বিষয়ে সর্তক হওয়া ও সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দেন জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসক বলেন, কৃষক রা যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে ধান তুলছেন, আশা করছি কোনো ক্ষতি হবে না। সবাইকে বন্যা মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাওরের ধান তুলতে মাইকিং করা হচ্ছে। নৌকা, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট সেবাসহ সকল কিছুর প্রতি আগাম প্রস্তুতি নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, বন্যার পূর্বাভাস পেয়ে সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ হাতে রয়েছে জিআর চাল ৬২০ মেট্রিক টন, ২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা নগদ রয়েছে। তাছাড়া মন্ত্রণালয়ে ১৫ লাখ টাকা ও ১০ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেটের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজেড