মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

লোডশেডিং ও দাবদাহ

ফুলবাড়ীতে বাড়ছে বোরো আবাদের খরচ, লোকসানের শঙ্কায় কৃষক

আপডেট : ০৪ মে ২০২৪, ১১:৫৩

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিদ্যুতের লোডশেডিংসহ চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে কৃষকদের বোরো আবাদের খরচ বাড়ছে। প্রয়োজন মাফিক বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় বোরো খেত বাঁচাতে বাধ্য হয়ে কৃষকরা ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিন চালিয়ে সেচ দিচ্ছেন জমিতে। তবে তাপপ্রবাহ বেশি থাকায় উপজেলার কিছু কিছু এলাকার জমিতে রোগবালাইও দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে এবার কৃষকদের বোরো আবাদ খরচ অনেক বেশি হবে এমনটাই ধারনা করছেন কৃষকরা।

উপজেলার পৌর এলাকার বারোকোনা গ্রামের কৃষক সৈয়দ সাইদুল ইসলাম রয়েল বলেন, অতিরিক্ত তাপে খেতে রোগবালাই ধরতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে আগেভাগে রোগ প্রতিরোধক কিছু ওষুধ জমিতে ছিটিয়ে দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত দেড় হাজার টাকার ওষুধ ছিটিয়েছেন। পুরো বৈশাখ মাসে এমন তীব্র তাপপ্রবাহ থাকলে বোরো চাষে প্রতি একরে পানি ও কীটনাশক ওষুধের ব্যয় বাড়বে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা।

উপজেলা শিবনগর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের কৃষক সুভাস চন্দ্র রায় বলেন, চলমান প্রচন্ড তাপপ্রবাহে বোরো ধানখেত ও সবজি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। হিট শক ও ব্লাস্ট সংক্রমণ যাতে না হয়, সেজন্য ঘন ঘন সেচ ও ওষুধ দেওয়ায় গত বছরের চেয়ে এবার উত্পাদন খরচ বাড়বে। 

একই ইউনিয়নের বুজরুক সমশেরনগর (পাঠকপাড়া) গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আর কত দিন এমন গরম থাকবে? এমন গরম থাকলে কৃষকের সবজি খেতে ঠিকমতো ফুল ও ফল আসবে না। উত্পাদন কম হবে। আর ধানের শীষ চিটা হয়ে যাবে। এবার সেচ খরচ খুবই বেশি হচ্ছে। ধানের দাম ভালো না পেলে লোকসান গুণতে হবে। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো চাষ মৌসুমে উপজেলার পৌর এলাকাসহ সাতটি ইউনিয়নে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজার ১৭৯ হেক্টর জমি। কিন্তু আবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ১৮৬ হেক্টর জমিতে। এতে উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯২ হাজার ৫৬৪ মেট্রিক টন। কৃষকরা ১৫ মার্চ পর্যন্ত বোরো চারা রোপণ করেছেন। 

উপজেলার কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা যায়, প্রচন্ড রোদে বোরো খেত শুকিয়ে যাচ্ছে। সেগুলোতে ফসল রক্ষায় ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিচ্ছেন কৃষকেরা। কেউ কেউ করছেন কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা বেশি থাকায় খেতের পানি দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ পাম্প দিয়ে পানির চাহিদা পূরণ না হওয়ায় কৃষকেরা ব্যক্তি উদ্যোগে ডিজেলচালিত মেশিন দিয়ে এক দিন পর পর সেচ দিচ্ছেন। অনেক খেত শুকিয়ে হিট শক ও ব্লাস্ট দেখা দিতে পারে এমন আশঙ্কায় এবং ফসল রক্ষায় খেতে নিয়মিত ওষুধ স্প্রে করছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহের বিরুপ প্রভাব থেকে ফসলের খেত রক্ষা করার জন্য মাঠপর্যায়ে কৃষকদেরকে খেতে সেচ ধরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে কৃষকরা অনেক সচেতন, তাই তারাও মাঠে বোরোধান খেতসহ অন্যান্য ফসল রক্ষায় সব ধরনের চেষ্টা করছেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন