৫০ ভাগ সন্তুষ্ট মুস্তাফিজ

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৯, ২১:৪১

 স্পোর্টস রিপোর্টার, লন্ডন (ইংল্যান্ড) থেকে

বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ হারলেও বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়েছেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। ভারতের পর পাকিস্তানের সাথেও পাঁচ উইকেট শিকার করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে দ্রুততম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে একশ ওয়ানডে উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়লেন তিনি। দ্বিতীয়ত, বিশ্বকাপে দুই ম্যাচে পাঁচ উইকেট শিকারী একমাত্র বাংলাদেশি বোলারও তিনি। তৃতীয়ত, এই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বাংলাদেশি বোলারও মুস্তাফিজ। এতসব সাফল্য মুস্তাফিজের জন্য বয়ে এনেছে আরেক বিরল সম্মান। লর্ডসের অনার্স বোর্ডে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তার নাম উঠে গেছে শুক্রবারই।

তবে এত সফলতার পরও বাংলাদেশ সেমিফাইনালে না ওঠায় এবং শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাতে না পারার আক্ষেপ পোড়াচ্ছে মুস্তাফিজকে। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের কাছে নিজের আক্ষেপের কথাই বারবার বলেছেন ফিজ। বলেন, ‘সেমিফাইনালে উঠতে পারলে খুশি হতাম। নিজের রেকর্ডটা তখন উপভোগ করতে পারতাম।’

লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নিজের নামটা পরেরবার এসে দেখবেন বলেও জানালেন ফিজ। পুরো বিশ্বকাপে নিজের পারফর্মেন্স নিয়েও সন্তুষ্ট নন তিনি। বলেন, ‘৫০ ভাগ সন্তুষ্ট। রানটা বেশি দিয়ে ফেলেছি। আরেকটু কম দিতে পারলে ভালো হতো বলে আমার কাছে মনে হয়।’

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নতুন বলে ঝড় তুলতেন। এখন পুরোনো বলে সফল হচ্ছেন। অনুভূতি জানতে চাইলে মুস্তাফিজ বলেন, নতুন বলে আমি তেমন সুইং করাতে পারি না। মাঝেমধ্যে হয়। তবে যেমন চাই সেভাবে হয় না। অন্যদের যেমন একটা স্বাভাবিক সুইং থাকে আমার ওরকম হয় না। ওইটা নিয়ে আরো কাজ করা লাগবে কিভাবে ইনসুইংটা আরো ভালো হয়। ২০১৬ তে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেছিলেন। এটা হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপে একটা আলাদা উন্মাদনা ও উত্তেজনা থাকে। প্রথম বিশ্বকাপ খেলার পর কি মনে হয় বাংলাদেশ কবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়য়ন হতে পারবে? ফিজ বলেন, বোলিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিং সবদিকেই উন্নতি করতে হবে।

১০০ উইকেট পূরণ করতে পাকিস্তান ম্যাচে দুটি উইকেট প্রয়োজন ছিল মুস্তাফিজের। প্রথম স্পেলে তিনি কোনো উইকেট পাননি। পরের স্পেলে সেঞ্চুরিয়ান ইমাম-উল-হককে ফিরিয়ে শিকার করা শুরু করেন তিনি। হারিস সোহেলকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন ১০০ উইকেট। শত উইকেটের অভিযানে ৫৪ ম্যাচে রেকর্ড ছুঁলেন মুস্তাফিজ। তার আগে এই রেকর্ড ছিল বাঁহাতি স্পিনার আবদুর রাজ্জাকের। তিনি ৬৯ ম্যাচে শত উইকেট নিয়েছিলেন। ৭৮ ম্যাচে ১০০ হয়েছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার। দ্রুততম ১০০ উইকেটের বিশ্ব রেকর্ডে মুস্তাফিজের স্থান চতুর্থ স্থানে। এই রেকর্ডে সবার ওপরে রয়েছেন রশিদ খান। ৪৪ ইনিংসেই তিনি ১০০ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। ৫২ ম্যাচে ১০০ হয়েছিল মিচেল স্টার্কের, ৫৩ ম্যাচে সাকলায়েন মুশতাকের।