শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

সিরিজ জয়ে স্বস্তি কার?

আপডেট : ০৮ মে ২০২৪, ১৯:০৭

দুই ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৯ রানের জয় এসেছে। আগের দুই ম্যাচে ৬ ও ৮ উইকেটের জয় থাকায় হ্যাটট্রিক জয় দেখেছে বাংলাদেশ। তবে স্বস্তি কি দেখেছেন টাইগাররা? সিরিজের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়েকে নিয়ে কথা হচ্ছে। বিশ্বকাপ সামনে রেখে এই দলের বিপক্ষে খেলে প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টি পড়েছে বড় প্রশ্নের মুখে। 

জিম্বাবুয়ের ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের বোলাররা কতটা প্রস্তুতি নেবেন? যদিও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হোসেন পাপন জানিয়েছেন, এফটিপিতে থাকার কারণেই সিরিজটি খেলতে হচ্ছে। এদিকে এই সিরিজে লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্তরা একের পর এক হতাশায় মুড়িয়ে যাচ্ছেন। তিন ম্যাচ থেকে শান্ত করেছেন ৪৩ রান, লিটন করেছেন ৩৬ রান। তাতে ফর্মহীনতার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন লিটন, এমনটাই মনে হয়েছে। গতকাল ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ব্লেসিং মুজারাবানির পরপর দুই বলে স্কুপ করতে গিয়ে ব্যর্থ হন লিটন। এরপর আবারও স্কুপ করতে গেলে স্ট্যাম্পই উপড়ে ফেলেন তিনি। ১২ রানে অপরাজিত লিটনকে এমন করতে দেখে হয়তো অবাক হয়েছেন ভক্তরা। তবে শেষ পর্যন্ত লিটন ও শান্তর ব্যর্থতার চাপ তেমন একটা পড়েনি। যদিও ম্যাচ শেষ দিকে জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রণে ছিল, তবে সেখানে বড় কোনো অঘটন ঘটেনি। 

ম্যাচ শেষে নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘ছেলেরা নিজেদের প্রমাণ করে দেখিয়েছে। বিশেষ করে হূদয় এবং জাকের ইনিংসের মাঝ থেকে ব্যাটিং করেছে। তাদের জন্য সত্যিই খুশি।’ শেষ দিকে বাংলাদেশ ভালো বোলিং করতে পারেনি। প্রথম দুই ম্যাচের মতো তৃতীয় ম্যাচেও টাইগারদের ডেথ ওভারের বোলিং উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে শান্ত বলেন, ‘আমরা শেষ পাঁচ ওভারে ভালো বোলিং করতে পারিনি। এই জায়গায় কাজ করতে হবে। সামনের ম্যাচের জন্য অপেক্ষা করছি। আশা করি সেখানে আমরা ভালো করব।’ প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ হয়ে তাওহীদ হূদয় বলেন, ‘আমি আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। উইকেট হারানোর পরে এমন পরিস্থিতি ছিল যে, আমাকে খেলতেই হতো এবং সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। উইকেট একটু স্লো ছিল, সে কারণে আমরা সময় নিয়েছিলাম। আমি আমার সঙ্গীকে বলেছিলাম, আগে থিতু হয়ে পরে হাত খুলতে হবে।’

এদিকে ১৬৫ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে। শেষ ২ ওভারে দলটির দরকার ছিল ২৭ রান। ১৯তম ওভারে তাসকিন মাত্র ৬ রান দিলে সেটি কঠিন হয়ে যায়। তবে শেষ ওভারে মুজারাবানি সাইফুদ্দিনের বলে পরপর ২টি চার হাঁকালে ম্যাচ দুলতে থাকে। ২টি ছক্কা কিংবা আর ৩টি বলে চার হলে খেলার মোড় পুরোটাই ঘুরে যেত। তবে শেষ ৩ বলে দলটি মাত্র ৩ রান নিতে পারে। তাতে বাংলাদেশ জয় পায় ৯ রানে। ম্যাচ শেষে সিকান্দার রাজা বলেন, ‘শেষ দিকে ম্যাচ আমাদের পক্ষেই ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখানেও হেরে গেলাম। ব্যর্থতার জন্য আমিসহ ওপরের পাঁচ জনকে দোষ নিতেই হবে। বাংলাদেশ আমাদের দেখিয়েছে যে, একজন ক্রিকেটারই পারে ম্যাচে পরিবর্তন এনে দিতে। এই লক্ষ্য তাড়া করাটা সহজ ছিল। আমরা সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করছি, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত হেরে যাচ্ছি। আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বোলার রিচার্ড এনগারাভা ইনজুরিতে।’ 

বাংলাদেশের বিপক্ষে করা ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিচ্ছে জিম্বাবুয়ে। অধিনায়ক রাজা বলেন, ‘আপনি যখন বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দলের বিপক্ষে খেলবেন, বিশেষ করে সফরে গিয়ে, তখন এই ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারবেন। অভিজ্ঞতার অভাবে অনেকেই ভুল করছে এবং আমি মনে করি এমনটা হতেই পারে। তরুণেরা খুবই ভালো খেলছে এবং তারা ব্যতিক্রমী। বিনোদনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে আমরা সেটি করতে পেরেছি। নেতিবাচক দিক থেকে অনেক বেশি ইতিবাচক বিষয় পেয়েছি। নেতিবাচক যদি ধরতেই হয়, তাহলে আমিসহ শীর্ষ পাঁচ ব্যাটারের রান না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসবে। এমন হারের পেছনে আমিই বেশি দায়ী।’

ইত্তেফাক/জেডএইচডি