দাম কম হওয়ায় একসঙ্গে ৪ কেজি গরুর গোস্ত কিনে ধরা প্রতারিত হয়েছেন খুলনার পাইকগাছার আজিজুল। এক কেজি খাওয়ার পর জানতে পারেন গরুটি ছিল মৃত। তার মতো এলাকার অনেকে ওই গরুর গোস্ত কেনেন। বিষয়টি জানার পর শুরু হয় তুলকালাম।
শুক্রবার (১০ মে) সন্ধ্যায় মাংস পুড়িয়ে ফেলা হয়। এর আগে গত বুধবার উপজেলার গড়ুইখালী ইউনিয়নের আল-আমীন মোড়ে এ মাংস বিক্রি করা হয়।
এলাকাবাসী জানান, বুধবার উপজেলার কুমখালী গ্রামের রমেশ বৈদ্যর দুটি গরু বাড়ির পাশে বিলে ঘাস খাওয়ার জন্য বেঁধে রাখে। প্রচণ্ড গরম আর রোদে গরু দুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক গরুর মালিক চিকিৎসক ডেকে আনেন। চিকিৎসকের পরামর্শে গরুর গায়ে পানি ঢালা হয়। তখন একটি গরু সুস্থ হলেও আরেকটি গরু মারা যায়।
এ সময় গড়ুইখালী এলাকার কসাই ইলিয়াস গাজী, মকছেদ গাজী, খানজে গাজী ও জাকির সানা ওই মাঠে গরুর মালিকের অনুমতিতে জবাই করেন। পরে ওই গরুর গোস্ত ইছা গাজী নামে এক ভ্যানচালকের মাধ্যমে আল-আমীন মোড়ে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা দরে ২০ জনের মধ্য বিক্রি করে দেন। পরে মরা গরু জানাজানি হলে শুক্রবার সন্ধ্যায় এলাকাবাসী ওই গোস্ত রাস্তার পাশে ফেলে রাখেন।
ভুক্তভোগী আজিজুল শেখ বলেন, অল্প টাকায় পেয়ে আমিও সাড়ে চার কেজি গোস্ত কিনেছিলাম ২০০০ টাকায়। ১ কেজি মাংস রান্না করে খেয়েছি বাকি তিন কেজি গোস্ত রাস্তায় ফেলে দিয়েছি।
গরুর মালিক রমেশ বৈদ্য বলেন, আমার দুটি গরু স্ট্রোক করেছিল। একটা গরু বাঁচাতে পেরেছি অন্যটা বাঁচাতে পারিনি। তাই মাঠে ফেলে দিয়ে আসি। গড়ুইখালীর কিছু লোক এসে ওই গরু জবাই করে গোস্ত নিয়ে গেছে, তবে কী করেছে এটা আমি জানি না।
কসাই মোকছেদ আলী গাজী বলেন, গরুটি মরা না। অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা গরুর মালিকের কাছ থেকে নিয়ে জবাই করে ২০ জনে ভাগ করে নিয়েছিলাম।
স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক উদয় মণ্ডল বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মরা গরুর গোস্ত জব্দ করা হয়। পরে গোস্তগুলো কেরোসিন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। যারা মরা গরুর গোস্ত বিক্রি করেছে তারা আইনের আওতায় আসবে।

