সরকারিভাবে প্রথমবারের মতো লিভার প্রতিস্থাপন
বিশেষ প্রতিনিধি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হওয়ার পর বর্তমানে লিভার দাতা এবং রোগী আশানুরূপ সুস্থ আছেন। গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিল্টন হলে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি ফলোআপ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ জুলফিকার রহমান খান।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, লিভার দাতা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। লিভার গ্রহীতাও বর্তমানে সুস্থ আছেন। গ্রহীতার ব্ল্যাড প্রেসার এবং রেসপিরেশন নরমাল আছে। তিনি স্বাভাবিকভাবে খাবার খেতে পারছেন। তার প্রতিস্থাপিত লিভার কাজ শুরু করেছে, তবে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করতে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবারের মতো লিভার ট্রান্সপ্লান্ট চালু ও ২০ বছর বয়সী যুবকের জটিল ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি ফলোআপ সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময়ই উত্সাহ দিয়েছেন। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার সময় এবং পরবর্তী সময়ে তিনি রোগী ও লিভার দাতার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। তিনি পোস্ট অপারেটিভ সময়ে রোগী যাতে নিরাপদে ও যত্নে থাকেন সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ২৪ জুন ২০ বছর বয়সী যুবক সিরাতুল ইসলাম শুভ’র লিভার ট্রান্সপ্লান্ট অপারেশন করা হয়। যুবকের ৪৯ বছর বয়সী মা ছেলেকে আংশিক লিভার দান করেন। বাংলাদেশের চিকিত্সক টিমকে সহায়তা করেন ভারতের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ডা. পি বালাচন্দ্র মেনন এর চার সদস্য বিশিষ্ট টিম।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
