শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

এ এক হতাশার সিরিজ

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ১২:১৬

শেষ ভালো যার সব ভালো তার। তাহলে জিম্বাবুয়ের সবটা ভালো হলো? হবে না কেন! বিশ্বকাপে খেলতে পারছে না দলটি, তারা এসেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে। তাতে বেশ সফলও সিকান্দার রাজারা। তবে মুদ্রার উলটো পিঠ দেখেছে বাংলাদেশ। পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে জয় এলেও দিনশেষে স্বস্তিটা যেন এলো না। 

গতকাল মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৮ উইকেটে হেরেছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। শেষ ম্যাচে এসে জিম্বাবুয়ে যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কীভাবে টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং করতে হয়। সেখানে বাংলাদেশ পুরো সিরিজে রান তোলার দিক থেকে হতাশ করেছে।

চট্টগ্রামে প্রথম দুই ম্যাচে আগে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছেন ভক্তরা। বিশ্বকাপের  আগে যেখানে টাইগার ব্যাটাররা নিজেদের ঝালিয়ে নেবেন, পরীক্ষানিরীক্ষা করবেন, সেখানে জিম্বাবুয়ের মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচ জেতা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে পুরো দল। সিরিজ নিশ্চিত হওয়ার পরেও ব্যাটাররা স্বস্তি দিতে পারেননি। চতুর্থ ম্যাচে দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার ঝলক দেখালেও বাকিরা জ্যামিতিক হারে হতাশ করেছেন। শেষ ম্যাচে এই দুই ওপেনারসহ পুরো টপ অর্ডার ব্যর্থ হয়েছে। অধিনায়ক শান্ত বিপদের মুহূর্তে ২৮ বল খেলে মাত্র ৩৬ রান করলেও সেটি ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এই সংস্করণের সঙ্গে যেন বড্ড বেমানান ছিল।

মিডল অর্ডারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ হাল ধরে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। কিন্তু ৪৪ বল খেললেও তিনি ৫৪ রানের বেশি করতে পারেননি। শেষ দিকে জাকের আলি অনিক ১১ বল খেলে কিছুটা হলেও দেখিয়েছেন ব্যাটিংটা কেমন হওয়া উচিত। বাংলাদেশ না পারলেও জিম্বাবুয়ে ঠিকেই করে দেখিয়েছে ঝোড়ো ব্যাটিং। ৪৬ বল খেলে সিকান্দার রাজা ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় তুলে নেন ৭২ রান। দলটির ওপেনার বেনেটও কম যাননি। তিনি ৪৯ বলে ৫টি করে চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে করেন ৭০ রান। এই দুজনের রানের বিপক্ষেই যেন মুখ থুবড়ে পড়েছিল টাইগার বাহিনী।

এ দিকে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও পারেননি অলরাউন্ডিং নৈপুণ্য দেখাতে। বল হাতে দুর্দান্ত সাকিবের বিপরীতে ব্যাট হাতে অচেনা এক সাকিবকে দেখা যাচ্ছে। অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই এভাবে দেখা যাচ্ছে তাকে। কয়েকটি ম্যাচে রান পেলেও ধারাবাহিকভাবে তাকে পাওয়া যায়নি। ডিপিএলে সেঞ্চুরি তুলে মিস্টার সেভেন্টি ফাইভ আশা দেখিয়েছিলেন। 

জিম্বাবুয়ে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ হলেও ব্যাট হাসেনি। চতুর্থ ম্যাচে করেন ৩ বলে ১ রান, পঞ্চম ম্যাচে ১৭ বলে ২১ রান। তাতে প্রতিপক্ষের ত্রাস হিসেবে খ্যাত সেই সাকিবকে পাওয়া যায়নি। বল হাতে দুই ম্যাচে ৫ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। তবে বিশ্বকাপে ব্যাটার সাকিবকেও দরকার। সেটি জানেনও মাগুরা-১ আসনের এই সংসদ সদস্য। তাইতো গতকাল ম্যাচ শেষে নীরবে নেমে যান অনুশীলনে। দীর্ঘক্ষণ ব্যাট হাতে নিজের শূন্যতার জায়গাটি বোঝার চেষ্টা করেছেন ।

বিপিএলের সিলেট পর্ব শেষে সাকিব বলেছিলেন, কোথায় সমস্যা হচ্ছে সেটি তিনি খুঁজে যাচ্ছেন। বুঝতে পারছেন না। বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল চোখের সমস্যায় ভুগছেন সাকিব। ব্যাটিংয়ের সময়ে মাথা ও চোখের অবস্থান ভিন্ন থাকে তার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও সেটি দেখা গেছে। যদিও সাকিব এটিকে চোখের সমস্যা বলছেন না। তার মতে সমস্যা কোথায় সেটি তিনি নিজেও জানেন না। এ দিকে মিরপুরে গতকাল ম্যাচ শেষে হতাশ হয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন ভক্তরা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছে বাংলাদেশ তাতে বিশ্বকাপে বড় দলগুলোর বিপক্ষে কী করবে, সেটি নিয়েই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

ইত্তেফাক/জেডএইচ