২৪ ঘন্টার মধ্যেই ফের বড়ো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য। বৃহস্পতিবারের ভূমিকম্পের পর শুক্রবার রাতে আবার ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১। এই ভূমিকম্পে হতাহতের খবর খুব বেশি পাওয়া না গেলেও কয়েকটি বাড়ি ও হোটেলে গ্যাসের পাইপ ফেটে আগুন লেগে যায়। কয়েক হাজার মানুষ বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছে সরকার। খবর সিএনএন ও ডেইলি মেইলের
বৃহস্পতিবার ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার মরুভূমি অঞ্চলে ১৭ শ’ আফটার শক হয় বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। তারা আরো আফটার শকের আশঙ্কা করছেন। রিখটার স্কেলে আফটার শকের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪। ইউএস জিওলজিকাল সার্ভে এবং একটি ইউরোপিয়ান সংস্থা জানিয়েছে, গত ২০ বছরের মধ্যে বৃহস্পতিবারেরটা ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন। সেই ভূ-কম্পনের রেশ কাটার আগেই ফের একবার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া। লস এঞ্জেলসের ২০২ কিলোমিটার (১২ মাইল) উত্তরে রিডগেক্রেস্ট শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে এই কম্পন অনুভূত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, ওখানেই রয়েছে কম্পনের উত্সস্থল। তবে প্রাথমিক ধাক্কায় রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৭ দশমিক ১ হলেও পরে এই মাত্রা কমে হয় ৬ দশমিক ৯। কম্পন অনুভূত হয়েছে পার্শ্ববর্তী মেক্সিকো, লাস ভেগাস এবং চিকো পর্যন্ত।
কম্পনের ফলে কোনো প্রাণহানি বা বড়ো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে দমকলবাহিনী জানিয়েছে, কয়েকটি বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। সেই বাড়ির বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভূ-কম্পের জেরে চারটি শহরে বন্ধ রাখা হয় রেল সেবা। ক্যালিফোর্নিয়া গভর্ণর অফিসের পরিচালক মার্ক ঘিলারধুক্কি জানিয়েছেন, গ্যাসের পাইপ ফেটে কিছু বাড়ি ও হোটেলে আগুন ধরার ঘটনা ঘটেছে। পানির লাইন ফেটে গেছে, বিদ্যুত্ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে। কিছু মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিও হাত লাগিয়েছে উদ্ধারকাজে। তবে পরপর দু’টি ভূমিকম্প ও লাগাতার আফটার শকের ফলে ব্যাহত হচ্ছে সেই কাজ।
