আইনগতভাবে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে সংশয়ে রয়েছে বিএনপি। তাঁর এখনো কারাদণ্ড হওয়া দুইটি মামলায় জামিন নিতে হবে। তবে অগ্রগতি নেই। সর্বশেষ গত ২৩ জুন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিনের আবেদন উপস্থাপন করেন আইনজীবীরা। এই জামিনের শুনানি কবে হবে তা অনিশ্চিত। কারণ বেঞ্চের এক বিচারপতি এক মাসের ছুটি নিয়েছেন। কোরবানির ঈদের আগে শুনানির সম্ভাবনা ক্ষীণ। এছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিনের আবেদন আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করা আছে। জামিন আবেদনটি কবে চেম্বার আদালতে উপস্থাপন করা হবে তাও অনিশ্চিত।
এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় দেড় বছর কারাগারে থাকা অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনে যাচ্ছে বিএনপি। প্রাথমিকভাবে দলটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভাগগুলোতে মহাসমাবেশ করবে। দলের নেতারা জানান, মহাসমাবেশের পর পর্যায়ক্রমে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীতে মহাসমাবেশের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই তিন বিভাগে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি সভাও হয়েছে। অন্য বিভাগগুলোতেও প্রস্তুতি চলছে।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, ২০ জুলাই (শনিবার) চট্টগ্রাম বিভাগীয় মহাসমাবেশ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ মহাসমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দান সংলগ্ন জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে এ সমাবেশের স্থান নির্ধারণ করেছে দলটি। এ লক্ষ্যে অনুমতি চেয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)-এর কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। একজন নেতা বলেন, মহাসমাবেশের জন্য প্রথমে লালদীঘির মাঠ চেয়েছিলাম। সেখানে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা থাকায়, লালদীঘির পাড়স্থ জেলা পরিষদ মার্কেট চত্বর অথবা কাজীর দেউরি মোড়ে সমাবেশ করার জন্য সিএমপির অনুমতি চেয়েছি।
উল্লেখ্য, গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের অনুমতি চাওয়া হলেও নগর পুলিশ কোনো বারই সে অুনমতি দেয়নি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নগর পুলিশের উপকমিশনার (বিশেষ শাখা) আব্দুল ওয়ারিশ বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে ২০ জুলাই সমাবেশ করার জন্য একটি আবেদন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। কমিশনার মহোদয় ছুটিতে গেছেন। তিনি ৯ জুলাই আসবেন। তিনি আসার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গতকাল শনিবার খুলনায় দলীয় কার্যালয়ে মহানগর ও জেলা বিএনপির যৌথ সভায় আগামী ২৫ জুলাই দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি ও অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার সুচিকিত্সার দাবি এবং সরকার-বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভাগীয় সমাবেশ আহ্বান করেছে খুলনা বিএনপি। সমাবেশে কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
সমাবেশে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। এরই মধ্যে সমাবেশ সফল করতে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা পর্যায়ে ব্যাপকভাবে গণসংযোগ, কর্মীসভা ও প্রস্তুতিমূলক সভা আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, আমির এজাজ খান, শেখ মোশারফ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, আগামী ৩০ বা ৩১ জুলাই রাজশাহীতে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মহাসমাবেশ করা হবে। রাজশাহী মাদ্রাসা ময়দানে এই সমাবেশ হবে। যদি পুলিশ সেখানে অনুমতি না দেয় তবে বিকল্প স্থানে সমাবেশের প্রস্তুতি থাকবে আমাদের। সমাবেশ সফল করতে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আন্দোলন জোরদার করার। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সমাবেশের কর্মসূচি পালন করা হবে। দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হলে কঠোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণজোয়ার সৃষ্টি করে এ সরকারকে পরাজিত করা হবে। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ সাজানো মামলায় কারাবন্দি রাখা হয়েছে। এই সরকার ইচ্ছে করেই খালেদা জিয়ার জামিন আটকে রেখেছে। সরকার জামিনে হস্তক্ষেপ করছে। ফলে আমাদের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করব।
