ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান হোসেন খানের নির্বাচনী উঠান বৈঠকে হামলার ঘটনায় অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফুর রহমান খানসহ জেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে সুলতান হোসেনের ভাই হেমায়েত উদ্দিন খান মামলাটি করেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মামলার আসামিরা হলেন আনারস মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আরিফুর রহমান, জেলা যুবলীগ আহবায়ক ও কাউন্সিলর রেজাউল করিম জাকির, যুবলীগ নেতা ও কাউন্সিলর কামাল শরীফ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর হাফিজ আল মাহমুদ, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসুদ মধু ও ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম পারভেজসহ মোট ১৭ জন।
মামলার এজাহারে হেমায়েত উদ্দিন অভিযোগ করেন, আমার ভাই সুলতান হোসেন খান ঝালকাঠি উপজেলার একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার পর থেকে অপর প্রার্থী আরিফুর রহমানের নির্দেশে মামলার আসামিরা তাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ও হুমকি দিয়ে আসছে। এদিকে আমার ভাইয়ের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসাবে গত ১৪ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এ সময় আরিফুর রহমানের নির্দেশে অন্য আসামিরা দা, লোহার রড, চাপাতি, হকস্টিক, জিআই পাইপ, রামদা, দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে আমার ভাইয়ের উঠান বৈঠকে হামলা করে।
এ সময় হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ভাইয়ের মাথা লক্ষ্য করে কোপ দেয় কামাল শরীফের। তবে আমার ভাই সরে যাওয়ায় কোপটি তার ডান বাহুতে লাগে এবং রক্তাক্ত জখম হয়। এ হামলায় আমার ভাইয়ের কর্মী-সমর্থকরা আহত হয়। পাশাপাশি ভাইয়ের ব্যবহৃত গাড়ি ভাংচুর করে তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনও ছিনিতে নেয় তারা।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, আটক ৩ জনের মধ্যে একজন এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামী। অন্য ২ জন সন্দেহভাজন আসামি। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের একটি অভিযোগ এজাহার হিসেবে প্রক্রিয়াধীন আছে।
