আজ ৭ জুলাই শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার দিন। ২০১৬ সালের এই দিনে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের পুলিশ চেকপোস্টে জঙ্গিরা হামলা চালায়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি পাঁচজন; কিন্তু আসামিদের আদালতে হাজির করতে না পারার কারণে এখনো মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি। যদিও সাক্ষ্যগ্রহণে মোট ছয়টি তারিখ ধার্য ছিল।
আসামিরা হলেন: জাহিদুল হক তামিম, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী ওরফে সুভাষ ওরফে জাহিদ, মিজানুর রহমান ওরফে বড়ো মিজান, মো. আনোয়ার হোসেন এবং মো. আব্দুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ ওরফে মুসাফির ওরফে জয় ওরফে নূরুল্লাহ।
এরমধ্যে আব্দুস সবুর খান ও জাহাঙ্গীর আলম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল আদালতে চার্জশিট গৃহীত হয়। গত ১৫ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য প্রথম দিন ছিল। পরবর্তীতে আরো পাঁচটি তারিখ ধার্য করা হয়; কিন্তু ধার্য তারিখে সাক্ষীরা উপস্থিত থাকলেও আসামিদের অনুপস্থিতির কারণে সাক্ষ্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
জেলা কারাগারসূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জাহিদুল হক তামিম শুধু কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে আটক রয়েছে। বাকি আসামিরা হলি আর্টিজানসহ দেশের বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত মামলার আসামি হওয়ায় কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন কারাগারে বন্দি অবস্থায় রয়েছে। হলি আর্টিজান মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব চলায় এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে আসামিদের কিশোরগঞ্জ আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না মর্মে জেল কর্তৃপক্ষ আদালতকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে বলে একটি সূত্র জানায়। আগামী ২২ জুলাই সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য রয়েছে।
শোলাকিয়ায় হামলার ঘটনায় সেদিন কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম ও মশিউর রহমান এবং গৃহবধূ ঝরনা রানী ভৌমিক নিহত হন। পুলিশের পালটা গুলিতে জঙ্গি আবির রহমান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। জঙ্গি শরীফুল ইসলাম ওরফে শফিউল ইসলাম ওরফে সাইফুল ইসলাম ও জাহিদুল হক তামিম ধরা পড়ে। পরে শরীফুল ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট ময়মনসিংহের নান্দাইলে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়।
