শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

হবিগঞ্জে ৫০০ বছরের শঙ্করপাশা মসজিদ

সুলতানি আমলের নিদর্শন

আপডেট : ১৮ মে ২০২৪, ০৬:৩১

বাংলাদেশে সুলতানি আমলের অপূর্ব স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর অন্যতম হবিগঞ্জ জেলার উচাইল গ্রামের শঙ্করপাশা শাহী মসজিদ। জেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের উচাইল গ্রামে ছয় একর বিস্তৃত ভূমিতে একটি টিলার ওপর এই মসজিদ অবস্থিত।

তথ্যে জানা যায়, পঞ্চদশ শতাব্দীতে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। হজরত শাহজালাল (র.)-এর সিলেট বিজয়ের পর তার যে ১২ জন সহকর্মীকে তরফ অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য পাঠানো হয়, তাদের অন্যতম ছিলেন শাহ মজলিশ আমিন। তিনিই এখানে প্রথম মসজিদ স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে মুসলিম বাংলার শাসনকর্তা সুলতান আলাউদ্দিন হোসাইন শাহের (১৪৯৩-১৫১৯) আমলে সুদৃশ্য ইমারতটি নির্মাণ করা হয়। ইমারতটি দৈর্ঘ্যে ২১ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং প্রস্থেও সমান মাপের। বারান্দা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। মূল ভবনের ওপর একটি বড় গম্বুজ এবং বারান্দার ওপর অপেক্ষাকৃত ছোট তিনটি গম্বুজ রয়েছে। দরজা জানালার সংখ্যা মোট ১৪টি। জানালাগুলো অনেকটাই দরজা আকৃতির। তিন দিকের দেওয়ালের পুরুত্ব প্রায় পাঁচ ফুট। পশ্চিম দিকের দেওয়ালের পুরুত্ব প্রায় দ্বিগুণ। সামনের প্রাচীরের কার্নিশ এবং ওপরের ছাদ নির্মিত হয়েছে বাঁকানোভাবে। প্রধান কক্ষের চার কোণে আর বারান্দার দুই কোণে মোট ছয়টি কারুকার্যশোভিত স্তম্ভ রয়েছে।

সুলতানি আমলের স্থাপত্যরীতি পূর্ণাঙ্গ রূপেই প্রকাশ পেয়েছে এই ইমারতে। ইমারতে উন্নতমানের পোড়া ইট কেটে প্রলেপবিহীন দেওয়ালে সেটে শৈল্পিক বৈশিষ্ট্যে সুষমামণ্ডিত কারুকার্য সহজেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দেওয়ালের বাইরের দিকে ইটের ওপর বিভিন্ন নকশা এবং অলংকরণ রয়েছে। শিলালিপিটি কালের চক্রে নষ্ট হয়ে গেছে। স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যে অনন্য এই মসজিদ ভবনের রক্তিম রং সবাইকে বিমোহিত করে।

মসজিদের দক্ষিণ পাশে শাহ মজলিশ আমিনের মাজার রয়েছে। পাশেই বড় দিঘি। প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন মানত নিয়ে এখানে হাজির হয়। যথাযথভাবে সংরক্ষণের অভাবে দীর্ঘদিনের এই প্রাচীন মসজিদের সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামীম আহমেদ জানান, ইদানীং সরকারি অনুদান ও স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগীতায় মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধিকল্পে উন্নয়নকাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ঐতিহাসিক মসজিদটি দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। তাই তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ ও এখানে একটি বিশ্রামাগার নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার বিকালে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোছা. জিলুফা সুলতানা কয়েক জন সরকারি কর্মকর্তাসহ প্রাচীন এই মসজিদ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মসজিদ কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে মসজিদের সংযোগ সড়ক উন্নয়ন ও দর্শনার্থীদের জন্য ওয়াশরুম তৈরি করার ব্যাপারে তার সহযোগিতার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। এজন্য তিনি মসজিদ কমিটির পক্ষে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দেন। এছাড়াও জেলা প্রশাসক প্রত্নতত্ত্ব বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইতিহাসখ্যাত এই মসজিদের প্রয়োজনীয় সংস্কার, উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির ব্যাপারে তার সহায়তার আশ্বাস দেন। 

ইত্তেফাক/এএইচপি