মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

চট্টগ্রামে টাকা না দিলে বিদ্যুতের সেবা মেলে না!

  • পদে পদে গ্রাহক হয়রানি 
  • ত্রুটি মেরামতের জন্য লাইনম্যানকে দিতে হয় বড় অঙ্কের ঘুষ
আপডেট : ২০ মে ২০২৪, ০৬:০০

বিদ্যুৎ সংযোগের সেবা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের। লাইনের ত্রুটি নিয়ে অভিযোগ করেও দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। গ্রাহকদের অভিযোগ, কোনোভাবে লাইনম্যানের দেখা মিললেও দিতে হয় বড় অঙ্কের টাকা। কোনো সময় ঝোড়ো হাওয়া বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে গ্রাহকদের ভোগান্তির সীমা থাকে না। পিডিবির কর্মকর্তারা বলেছেন, দীর্ঘদিন জনবল নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। তাই জনবলের সংকটে সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম জোনে লাইনম্যান ও হেলপার পদায়ন নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। জোনের অন্যান্য জেলার চেয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে পোস্টিং নিয়ে তাদের আগ্রহ বেশি। এছাড়া পুরোনো যানবাহনগুলো জরাজীর্ণতার কারণে প্রায় সময় যান্ত্রিক ত্রুটিতে অচল থাকে। গ্রাহকেরা অভিযোগ করেছেন, বিদ্যুৎ লাইনের জরুরি সেবা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে জনজীবনে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। কোনো কারণে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে কখনো কখনো কয়েক দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। আবার বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যেসব গ্রাহকের আগে থেকে পরিচয়  রয়েছে, তারা ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরে আগে সেবা পাচ্ছেন। এজন্য লাইনম্যান ও হেলপারদের চাহিদামতো আর্থিক সুবিধা দিতে হয়। আবার টাকার পরিমাণ কম হলে চলে দর-কষাকষি। পরে আর ‘সেবা না দেওয়ার’ হুমকিও দেয়।

কর্মকর্তারা জানান, পিডিবিতে ১৯৮৪ সালের সেটআপের জনবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তার মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত জনবল নিয়োগ নেই। ইতিমধ্যে অবসরে যেতে যেতে অনেক বিতরণ বিভাগে সেবা কার্যক্রমে নিয়োজিত জনবলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। যানবাহনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে লক্কড়ঝক্কড় হয়ে পড়েছে। প্রায় সময় অচল থাকে। এতে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। পিডিবি হাটহাজারী বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াজ আহমেদ খান বলেন, ৮৪ সালের জনবলের সেটআপে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জনবল লজিস্টিক সাপোর্ট সব কিছুর ঘাটতি রয়েছে।’ পিডিবি পাহাড়তলী বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল্লাহ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা হঠাৎ কোনো ঝোড়ো হাওয়া হলে বিদ্যুতের লাইনে সমস্যা দেখা দেয়। তখন লাইনম্যানদের কাজ বেড়ে যায়। এমনিতে সারা বছর তাদের তেমন কাজ থাকে না। অলস সময় কাটায়। আমার বিভাগে ২৭ জন লাইনম্যান রয়েছে। যানবাহনগুলো অনেক পুরোনো।’ ষোলশহর বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈকত কান্তি দে বলেন, ‘আমার ৯৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। লাইনম্যান আছে ১৬ জন। জনবলের সংকট থাকায় ঠিকাদারের লোক দিয়েও লাইনের কাজ করানো হয়।’

চট্টগ্রাম শহরের বিতরণ বিভাগগুলোতে পদায়নে চলে ব্যাপক তদবির। এখানে কাজ করতে ভালো আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে চট্টগ্রাম নগরীর চেয়ে তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার জেলায় মাঠ পর্যায়ে লাইনম্যান ও হেলপারের সংকট বেশি।  ফলে নগরীতে একবার ঢুকতে পারলে আর বের হতে চায় না কেউ। নগরীর পিডিবির বিতরণ বিভাগগুলোতে অনেক লাইনম্যান বছরের পর বছর একই জায়গায় নিয়োজিত রয়েছেন। আবার যারা তদবির করতে পারছেন না, তাদের গ্রামের বিতরণ অফিসগুলোতে বছরের পর বছর কর্মরত থাকতে হচ্ছে।

পিডিবি বিতরণ দক্ষিণাঞ্চলের উপপরিচালক (প্রশাসন) আরিফুল হাসান বলেন, জনবল নিয়োগ উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে আমরা জনবলের ঘাটতির তথ্য পাঠিয়েছি। ইতিমধ্যে নিম্নমান হিসাব সহকারী পদে ৩০০ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। আমাদের জনবলের ব্যাপক সংকট রয়েছে। ‘সাহায্যকারী’ পদে নিয়োগ দেওয়া হলে পরে পদোন্নতির মাধ্যমে লাইনম্যানসহ অন্যান্য পদ পূরণ করা যায়। তাই এই পদে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। আউটসোর্সিংয়ে জনবল দিয়ে কাজ করানোর কোনো অনুমোদন নেই।’

ইত্তেফাক/এমএএম