মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

নেতার বৈশিষ্ট্য ও বর্তমান বিশ্ব

আপডেট : ২০ মে ২০২৪, ০৭:৩০

একজন রাজনৈতিক নেতার বৈশিষ্ট্য কী হইবে তাহা লইয়া একটি বৈশ্বিক ধারণা রহিয়াছে। সেই ধারণাটি হইল, দেশ পরিচালনাকারী তথা নেতার মধ্যে পাঁচটি গুণ থাকিতে হইবে : শৃঙ্খলা, বিশ্বস্ততা, সাহস, মানুষের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং বুদ্ধিমত্তা। লিখিত অসংখ্য গ্রন্থের কথা উল্লেখ করা যায় যেইখানে একজন নেতার কথা বলা হইয়াছে, তিনি হইবেন সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষ, উন্নতিসাধনের জন্য গৃহীত কার্যাবলির ব্যাপারে দৃঢ়, বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থাপনা ও সমাধানে ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন এবং সর্বোপরি কোনটা সঠিক তাহা বুঝিবার জ্ঞান তাহার থাকিতে হইবে। এই সকল গুণাগুণ না থাকিলে রাষ্ট্র অসফল হইতে পারে, এমন কথাও কোনো কোনো গ্রন্থে উল্লেখ করা হইয়াছে। যদিও এমআইটির অর্থনীতিবিদ দারোন অ্যাসমগুলু এবং হার্ভার্ডের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জেমস এ রবিনসনের যৌথভাবে লিখিত ‘হোয়াই ন্যাশনস ফেইল’ গ্রন্থে তাহারা অর্থনীতিকে রাষ্ট্রের সফলতা এবং বিফলতার সহিত একই সূত্রে বাঁধিয়াছেন, যাহা প্রকারান্তরে নেতার সফলতা-বিফলতারই প্রতিফলন।

তবে বর্তমান সময়ে ভালো হইয়াছে কি মন্দ হইয়াছে, সেই বিচারে না গিয়া ইহা বলা যায় যে, বিশ্বের নেতাদের আচরণ ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আসিয়াছে। অর্থাত্ বিগত দিনের নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গির সহিত বর্তমান বিশ্বের নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য সুস্পষ্ট হইয়া উঠিয়াছে। বর্তমানে বিশ্বনেতারা প্রতিপক্ষের বিষয়ে কিংবা ভিন্ন দেশের বিষয়ে অধিক সুস্পষ্ট হইয়া উঠিয়াছেন। অর্থাত্ কথাবার্তায় কূটনৈতিক নর্ম অনুসরণ না করিয়া সহজ ভাষায় মনোভাব ব্যক্ত করিতেছেন। এখনকার বিশ্ব বিগত বিশ্বের চাইতে অনেক জটিল ও স্পর্শকাতর হইয়া উঠিয়াছে। এক দেশের সহিত আরেক দেশের প্রতিযোগিতা কেবল অর্থনীতি বা যুদ্ধাস্ত্রে সীমাবদ্ধ নাই। যুক্ত হইয়াছে প্রযুক্তি, মহাকাশ প্রতিযোগিতাসহ নানা বিষয়। আধুনিক সময় একজন রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান দেশের অভ্যন্তরের অথবা বহির্বিশ্বের কোনো বিষয় লইয়া তাহার মত, দৃষ্টিভঙ্গি এবং বক্তব্য প্রকাশ করেন টুইটার (বর্তমানে এক্স), ফেসবুক অথবা অন্য কোনো সোশ্যাল মিডিয়ায়। এবং ইহা করিতে দেখা যায় কোনো ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই। তিনি পোস্ট করিবার এক সেকেন্ডের মধ্যেই অন্য একজন নেতা তাহা দেখিতে পান এবং তাহার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ইহাদের ভালোমন্দ দুইটি বিষয়ই রহিয়াছে। নেতাদের মধ্যে আন্তরিকতাও যেমন বাড়িতেছে, তেমনি বৈরী ভাবও প্রকট হইতেছে। সম্পর্কের উঠানামাও ঘটিতেছে রাতারাতি। অন্যদিকে আমরা লক্ষ করিয়া থাকি, যেই সকল দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দৃঢ়, সেই সকল দেশের নেতারা শুধু কথা বলায় সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং সরকারের কাজেও অধিকতর মনোনিবেশ করিয়া থাকেন। হয়তো সেই কারণেই ফ্রাংকলিন ডি রুজভেল্ট বলিয়াছিলেন, ‘তাহারাই হইল সত্যিকার সফল রাজনৈতিক নেতা, যাহারা রাজনীতির চাইতে সরকারি কাজে অধিক মনোনিবেশ করেন।’

তবে ভিন্ন কথাও আছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগবিষয়ক প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ মার্ক স্কাউজেন তাহার একটি গ্রন্থে লিখিয়াছেন, ‘আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের রাজনীতিবিদদের পরিবর্তন করিতে পারিব না, যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণকে পরিবর্তন করিতে পারিব না, যাহারা তাহাদের ভোট দেয়।’ ইহাও একটি বাস্তবতা। কারণ মানুষের মধ্য হইতেই তো নেতা উঠিয়া আসিতেছে। তাহারাও সমাজের অংশ। তাহাদের মধ্যেও সমাজের চিন্তা প্রতিফলিত হওয়া অস্বাভাবিক নহে।

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন