শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

উৎসবে রঙিন কিংসের ট্রেবল

আপডেট : ২৩ মে ২০২৪, ১২:১০

স্বাধীনতা কাপ, প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের ট্রফি, এরপর জয়ের লক্ষ্য ছিল ফেডারেশন কাপের ট্রফিও। সেই ট্রফিটাও জয় করে নিয়ে গেছে বসুন্ধরা কিংস। ট্রেবল জয়ের ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে কিংস। এক মৌসুমে টানা ট্রফি জয়ের তৃতীয় ক্লাবটির নাম এখন বসুন্ধরা কিংস।

ময়মনসিংহের নাম দেশের ফুটবলের ইতিহাসে সারা জীবন লেখা থাকবে। রফিক উদ্দিন ভুঁইয়া স্টেডিয়ামের কথা সারা জীবন মনে থাকবে কিংসের। এই মাঠ থেকেই ট্রেবল জয় করেছে কিংস। এর আগে মোহামেডানের ঘরে আছে ট্রেবল জয়ের ইতিহাস। তিন বার ট্রেবল জয় করেছে। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রও ট্রেবল জয়ের খাতায় নাম লিখেছে। গতকাল আরও একটি নাম যুক্ত হয়েছে। 

শুধুই ক্লাবের নামে নয়, এই দলটার জার্সি গায়ে যারাই খেলেছেন তারা সবাই ট্রেবল জয়ের প্রথম স্বাদ পেয়েছেন। সেই আবেগে কাল ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনালে ২-১ গোলে মোহামেডানকে হারিয়ে আবেগে ভেসেছেন চ্যাম্পিয়ন কিংসের ফুটবলাররা। রেফারি জসিম সরকার খেলার শেষ বাঁশী বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে ডাগ আউট হতে ব্যাগ নিয়ে মাঠে ঢোকেন বসুন্ধরা কিংসের কর্মচারী। ব্যাগ থেকে গেঞ্জি বের করে দেন সবাইকে। বুকে লেখাছিল ট্রেবল। সবাই সেই গেঞ্জি গায়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেন।

দর্শকদের দিকে ছুটে যান। দর্শকরাও কিংসের ফুটবলারদের সঙ্গে মেতে উঠেন। রঙিন ধোয়া বাতাসে ভাসিয়ে ট্রেবল জয়ের উত্সব জানান দেয়। বসুন্ধরার নিয়ে যাওয়া সমর্থকরা অনেকেই গ্যালারির থেকে মাঠে ঢুকে যান। বিশ্বনাথ, উজবেকিস্তানের বুবরবেক, রিমন হোসেন, ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক রবসন, অন্য দুই স্বদেশী মিগুয়েল, ডরিয়েলটন, রাকিব হোসেন, গোলরক্ষক মেহেদী  হাসান শ্রাবণ, দুই সোহেল রানা, শেখ মোরসালিন, তপু বর্মনরা মাঠ ঘুরেছেন। সিনিয়র সোহেল রানাকে নিয়ে মিগুয়েলের মজা করার দৃশ্য, তাকে নিয়ে টেনে জার্সি খুলে দেওয়া, রসবন গিয়ে দৌড়ে অন্যদের সঙ্গে যোগ দেওয়া, তাদের মধ্যে বাঁধভাঙা উত্সব। 

গ্যালারিতে তখনো দর্শক উত্সব উপভোগ করছে। আবেগে কেউ মাঠে ঢুকে পড়েছে বলে তাকে বাধা দিতে গিয়ে বাফুফের কর্মীরা মাটিতে ফেলে মেরেছেন। তরুণকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন মিগুয়েল এবং বিশ্বনাথ। তারা তরুণ ছেলেটিকে উদ্ধার করেন এবং মিগুয়েল ও বিশ্বনাথ দুজনেই উচ্চস্বরে কথা বলেন। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের শহর ময়মনসিংহ। তার শহরে ফুটবলের উত্সব নতুন নয়। ফেডারেশন কাপ ফুটবলের আগে এই শহরের প্রচার ছিল না। কিন্তু কাল দুপুরেই স্টেডিয়াম এলাকায় যানজট দেখা যায়, প্রচুর হকার এসেছেন নানা ধরনের মুখরোচক খাবার নিয়ে। লোকে লোকারণ্য। কোথা থেকে এত দর্শকের আগমন, তা অবাক করেছে। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে গ্যালারিতে হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতি জানিয়ে দেয়—তারা ফুটবলকে কতটা ভালোবাসেন। ফেডারেশন কাপের উত্তেজনার ফাইনাল দেখে তারাও সন্তুষ্ট।  

   

ফাইনালে অনেক বাধা পেরিয়ে ট্রফি হাতে তুলতে হয়েছে। মোহামেডানকে হারাতে গিয়ে বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলাররা পিছিয়ে গিয়েছিলেন। মোহামেডানের বিপক্ষে গোল হজম করে বসুন্ধরা কিংস ম্যাচ জিতেছে। ৯০ মিনিট ১-১ গোলে শেষ হয়। অতিরিক্তি ৩০ মিনিটের লড়াইয়ে বসুন্ধরা কিংস ম্যাচ জিতেছে।

কিংসের তুলনায় মোহামেডানের শক্তি কম, তার পরও বসুন্ধরা কিংসকে খুব সহজেই জিততে দেয়নি। মোহামেডানের অধিনায়ক সুলায়ামন দিয়াবাদেতর শট ঠেকিয়ে দেন কিংসের গোলরক্ষক শ্রাবণ। উজবেক ফুটবলার মোজাফফরভের শটও ঠেকিয়েছেন তিনি। আক্রমণের স্রোতে নাইজেরিয়ান ফুটবলার এমানুয়েল সানডে দুই ফুটবলারকে কাটিয়ে বাম পায়ে আচমকা শটে গোল করেন ১-০।

 গোলের পরও মোহামেডানের আক্রমণে পিছিয়ে পড়া কিংসের রক্ষণ এলোমেলো হয়ে পড়ে। ঝড় সামাল দিতে বসুন্ধরা স্প্যানিশ কোচ অষ্কার ব্রুজন এক সময়ে তিন ফুটবলার মাঠে নামান।  গোল শোধে মরিয়া কিংসের ফুটবলাররা। রবসন দূর থেকে দুর্দান্ত শট করেছিলেন। বল সাইড পোস্টে লেগে খেলায় ফিরে আসে। খেলা শেষ হতে বাকি চার মিনিট। ৮৬ মিনিটে একটা ভুলের সুযোগে ব্রাজিলিয়ান মিগুয়েল গোল করেন, ১-১। ৩০ মিনিটের খেলার প্রথম ১৫ মিনিটে মিগুয়েলের কর্নারের বল ধরতে পারেননি মোহামেডান গোলরক্ষক সুজন। ধাক্কা লেগে পড়ে যান। বদলি খেলতে নামা জাহিদ হাসান সহজ বল মোহামেডানের জালে জড়িয়ে দেন, ২-১। 

এই গোল নিয়ে আপত্তি ওঠে। মোহামেডান ফুটবলাররা রেফারিকে ঘিরে ধরে। খেলা বন্ধ থাকে ১৩ মিনিট। মাঠের বাইরে থাকা ক্লাবের ফুটবল কর্মকর্তাদের নির্দেশে খেলায় ফেরেন খেলোয়াড়রা। গোল শোধ করার দারুণ সুযোগ হাতছাড়া হয় মোহামেডানের। শাহরিয়ার ইমনের শট কিংসের পোস্টের একটু বাইরে দিয়ে চলে গেলে ট্রফি হারানোর ব্যথা নিয়ে মাঠে ছাড়ে এই টুর্নামেন্টের গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান।

ইত্তেফাক/জেডএইউচ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন