শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

অপরাধের নিম্নচাপ!

আপডেট : ২৫ মে ২০২৪, ০৫:০০

মানুষ যখন অপরাধ করে তখন তা প্রকাশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত অপরাধী চায় সবকিছু দিয়ে তা ঢেকে রাখতে। তারপর অপরাধী আরো অপরাধ করতে থাকে। প্রকৃতিই তাকে সাহস দেয় যে কিছু হবে না তুমি তো ঢেকে রাখতে পারছ। একটা সময় এসে অপরাধী বুঝতে পারে অপরাধ প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে। তখন সে কী করে! অপরাধী তখন আরো বেশি অপরাধ করতে শুরু করে। অপরাধ ঢাকার জন্য যারা যারা এর সঙ্গে সমপৃক্ত হয় তাদের সকলকেই ম্যানেজ করার চেষ্টা করে।

বর্তমানে অপরাধ যেমন বেড়েছে তেমনি সাংবাদিকতার কারণে তা উন্মোচন হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়েছে। যে যাই বলুক শুদ্ধ সাংবাদিকতা এখনো আছে বলেই অপরাধ অপ্রকাশ্য থাকে না। জনসমক্ষে আসার পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ব্যবস্থা নেয়। মূলত এখানেই অপরাধের নিম্নচাপ কথাটি প্রযোজ্য হয়ে ওঠে। কিছু মানুষ অপরাধীর পক্ষেও দাঁড়ায়। তখন অপরাধী চেষ্টা করে আরো বড় পরিসরে ম্যানেজ করতে। এই সময়ের মধ্যে তদন্ত অনেকটাই নির্ভর হয়ে পড়ে মানুষের দেওয়া তথ্যের ওপর, অনেক সময় দুর্নীতির কারণে অপরাধ আর সামনেই আসে না। সংবাদের ধরনও পালটে যায় অনেক সময় হলুদ সাংবাদিকতার কারণে। এখন চারপাশে যত অপরাধ হয় তা পারিবারিক ও সামাজিক। আমাদের পারিবারিক অপরাধগুলোও সমাজে সরাসরি প্রভাব ফেলে। যার কারণে সমাজ অস্থির হয়ে ওঠে। এই সবকিছুর পর যে প্রশ্নটি সবার আগে আসে সেটি হলো আসলে কি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপরাধীরা অপরাধী হিসেবে শেষ অব্দি তদন্তে প্রমাণিত হয় কি না! সময় ক্ষেপণ, তদন্তের আগে পরে সাক্ষীর বিভিন্নতা, দুর্নীতি, উভয় পক্ষের প্রতিবেদন, প্রভাবশালিত্ব সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক ভ্যালু।

সবকিছু মিলে অপরাধ প্রমাণ এবং অপরাধীদের শাস্তি কেমন যেন একটা বহুরূপী আচরণের মতো। সাগরে নিম্নচাপ হলে উপরিভাগে প্রচণ্ড গরম অনুভূত হয় আর আস্তে আস্তে ঘূর্ণিঝড়ের দিকে রূপ নেয় উত্তাল সাগর। ঠিক তেমনি বিচারিক নিম্নচাপ বলতে বোঝাতে চাচ্ছি যত সহজে অপরাধীর বিষয়ে অভিযোগ আসে ততটা উত্তাপ নিয়ে বিচারিক কার্যক্রম করা সম্ভব না হওয়ায় নিম্নচাপ আর ঘূর্ণিঝড়ে রূপদান হয় না।

অপরাধ সংগঠনের সময় পারিপার্শ্বিক মানুষের অনুভূতি যেমন কাজ করে তেমনি অনেকদিন পর সেই অনুভূতি প্রথম দিনের মতো কাজ করে না। সেক্ষেত্রেও অপরাধের ব্যাপ্তি কমে যায় এবং অপরাধী ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

সুতরাং অপরাধীকে শাস্তি দিতে হলে দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। অপরাধ করার পর কেউ শাস্তি না পেলে অপরাধ বাড়তেই থাকবে। অপরাধ কমানোর জন্য অপরাধের নিম্নচাপীয় অবস্থা তৈরি করা যাবে না। যদি এমন হয় যে অপরাধ হতেই থাকল আর সবাই সেখানে অপরাধীকে ঘিরে কেউ বাণিজ্য করার চিন্তা করল, কেউ চিন্তা করল আগের শত্রুতার জেরে আরো ফাঁসিয়ে দেয় অথবা অপরাধী নির্দোষ প্রমাণ করা—সবই নতুন অপরাধের জন্ম দেবে।

অপরাধ প্রবণতা কমানোর জন্য অপরাধীকে সঠিক তদন্তের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়াটাই মোক্ষম।

ইত্তেফাক/এএইচপি