বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

উপজেলা নির্বাচন

আয় ও নগদ টাকা বেড়েছে সবুজ মতিনের

আপডেট : ২৫ মে ২০২৪, ২১:১৩

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী শহিদুল্লাহ সবুজ ও আব্দুল মতিন চৌধুরীর আয় ও নগদ টাকা বেড়েছে। চতুর্থ ও ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাদের দেওয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। 

হলফনামা বিশ্লেষণে জানা যায়, বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম শহিদুল্লাহ সবুজ। তিনি ২০০৯ সালে তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। শহিদুল্লাহ সবুজের চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দেয়া হলফনামায় তার একমাত্র আয়ের উৎস সম্মানী ভাতা বছরে প্রাপ্ত হন ২ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা উল্লেখ করেন। হলফনামায় তার নগদ টাকার পরিমাণ উল্লেখ করেন দুই লক্ষ টাকা, তার নিজ নামে অকৃষি জমি ২ শতক যার বাজারমূল্য এক লক্ষ টাকা তার স্ত্রীর দুই শতক জমি তারও বাজার মূল্য এক লক্ষ টাকা। এ সময় সোনালী ব্যাংক থেকে তার এক লক্ষ কৃষি ঋণ হলফনামায় উল্লেখ করেন। ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তার হলফনামায় উপজেলা চেয়ারম্যানের সম্মানী ভাতা বাবদ বার্ষিক ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা একমাত্র আয়ের উৎস বলে উল্লেখ করেন শহিদুল্লাহ সবুজ। হলফনামায় তার নগদ টাকা ১৪ লক্ষ ৬০ হাজার উল্লেখ করা হয়েছে। ১০ বছর আগে তার ও স্ত্রীর ৪ শতক জমি থাকলেও সেটি আর নেই। সোনালী ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণও পরিশোধ করা হয়েছে। এতে চতুর্থ ও ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের শহিদুল্লাহ সবুজের দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেয়া যায়, তার আয় ও নগদ টাকা বহুগুণে বেড়েছে।

অপরদিকে আব্দুল মতিন চৌধুরী চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে তিনি হেরে যান। তার দেয়া চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের হলফনামায় বছরে ব্যবসা থেকে ১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা আয় ও তার মেয়ে চাকরি করে আয় করেন এক লক্ষ ৮০ হাজার টাকা উল্লেখ করেন। হলফনামায় তার নগদ টাকার পরিমাণ উল্লেখ করেন ৫ লক্ষ টাকা, তার নামে ১০ তোলা স্বর্ণ যার মূল্য ৫ হাজার টাকা, টিভি ফ্রিজ ইত্যাদি মূল্য ৩৫ হাজার টাকা, খাট সোফা মূল্য ৪৫ হাজার টাকা। ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তার হলফনামায় ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ২ লক্ষ ৯৮ হাজার ৮৪২ টাকা, হাঁস মুরগী পালন করে আয় ৮ হাজার ৭৬৫ টাকা এবং নগদ টাকা ১১ লক্ষ ১৯১ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার, টিভি, ফ্রিজ, ফ্যান অন্যান্য ৩৫ হাজার টাকা, খাট, সোফা, ড্রেসিং টেবিল, ওয়্যারড্রোব ৪৫ হাজার টাকা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়। তার স্ত্রীর দান সূত্রে ঢাকায় ৭ লক্ষ টাকা মূল্যের ৫ কাঠা জমি এবং মতিন চৌধুরীর যৌথ মালিকানায় জমি ও ঘর বাড়ী রয়েছে। এতে চতুর্থ ও ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আব্দুল মতিন চৌধুরীর দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১০ বছরে তার আয় ও নগদ টাকা বেড়েছে।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান প্রার্থী শহিদুল্লাহ সবুজ বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে যে ভাতা পেয়েছি, সেই ভাতা থেকে জীবিকা নির্বাহ করে কিছু টাকা সঞ্চয় করেছি। যার কারণে আমার নগদ টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর আমার নির্বাচনে যে টাকা ব্যয় হয়, জনগণ আমাকে ভালোবেসে নির্বাচনে নিজেদের টাকা খরচ করেন। 
 
চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। ব্যবসার মাধ্যমে আমার আয় ও নগদ টাকা কিছু বৃদ্ধি পেয়েছে।

উল্লেখ্য, চতুর্থ ধাপে আগামী ৫ জুন কামারখন্দ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ইত্তেফাক/পিও