শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন ব্রিটিশ রাজনীতিকরা

আপডেট : ২৭ মে ২০২৪, ১০:৫৭

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বুধবার ৪ জুলাই সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তার সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে যা অর্জন করেছে, তার জন্য তিনি গর্বিত। বিরোধী লেবার পার্টির নেতা স্যার কেনর স্টারমার বলেছেন ‘নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিল পুরো দেশ’। তবে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি নির্বাচনের সময় নির্ধারণ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেছেন, গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর স্কটল্যান্ডের স্কুলগুলো এ সময় খোলে। এর মধ্য দিয়ে তাদের প্রতি ‘অসম্মান’ দেখানো হলো বলে তিনি মনে করেন।

সাধারণ নির্বাচনের আয়োজনের জন্য সরকারের হাতে আগামী বছর ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় ছিল। ধারণা করা হচ্ছিল, চলতি বছর শেষের দিকে নির্বাচন হতে পারে। সেদিক থেকে সুনাক বেশ আগেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। নির্বাচনের আগাম ঘোষণায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা এড ডেভি। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনের দিকেই গোটা দেশ তাকিয়ে আছে। এর মাধ্যমেই সম্ভব সুনাকের কনজারভেটিভ পার্টির দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তি পাওয়া’। রিফর্ম পার্টি নেতা রিচার্ড টাইস বলেছেন, ‘মজার কাণ্ড, বৃষ্টিতে ভিজছেন প্রধানমন্ত্রী, কনজারভেটিভ সরকার কি পরিমাণ এই একটি দৃশ্যই তা তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট।’ উল্লেখ্য ২২ মে সুনাকের আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার সময় ডাউনিং স্ট্রিটে বৃষ্টি হচ্ছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও তার বৃষ্টিভেজা প্রকাশিত হয়। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যেসব প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তার বেশিরভাগ ইতিবাচক। যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ এসেছে। শুক্রবার পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত হয়। এদিন থেকে নিজ এলাকায় প্রচার শুরু করেন এমপিরা। আর্থিক ও করবিষয়ক পার্লামেন্টে এই মুহূর্তে যে বিলগুলো ছিল, সেগুলোর কি হবে সে ব্যাপারে প্রশ্ন থেকে যায়। ধারণা করা যায়, রুটিন বাধা কিছু বিল পাশ হবে।

ব্রিটিশ রাজনীতিবিদরা আনন্দ প্রকাশ করলেও জনগণের জন্য এটা খুব বড় ইস্যু নয়। তাদের দুইটি বড় দলের একটিকে বেছে নিতে হবে। সবাই চেষ্টা করবে প্রত্যক্ষ কর কমিয়ে পরোক্ষ কর বাড়িয়ে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের। লেবার পার্টি ‘ওডে টু জয়’ ইইউর জাতীয় সংগীতের এই কথা সামনে এনে জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করবে যে, অস্থিতিশীল সময়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ধারণের ক্ষমতা কেবল তাদেরই আছে। লেবার পার্টির বর্তমান নেতা ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট গণভোটে ইইউর সঙ্গে থাকার পক্ষে ছিলেন। তার দল আবার ক্ষমতায় গেলে সিঙ্গেল মার্কেট বা কাস্টম ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। ব্রেক্সিট দেশটির রাজনীতিতে এতটা তিক্ততা এনেছে, যার রেশ এখনো রয়ে গেছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জার্মানি, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের মতো গুরুত্বপুর্ণ ইইউ দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের। দলটি ২০১০ সাল থেকে বিরোধী দলের আসনে আছে।

ব্রেক্সিট ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি বাস্তবায়িত হয়। ব্রেক্সিটপন্থিরা স্বীকার করেন, এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্রিটেনের অবস্থান আগের চাইতে বাড়েনি বরং কমেছে। ব্রেক্সিটের ফলে খাদ্য, ওষুধ থেকে অটোমোবাইল পর্যন্ত সব কিছুর দাম বেড়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, অনিয়মিত অভিবাসী প্রবেশরোধে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করার প্রতিশ্রুতিদানকারী লেবার নেতা স্টারমার এটাও বলেছেন, টোরি পার্টি (কনজারভেটিভ) বছরের পর বছর সমস্যার পাহাড় যেভাবে জমিয়েছে, তার কোনো চটজলদি সমাধান নেই। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সমস্যাগুলো সমাধানে তাদের আগাম প্রস্তুতি থাকতে হবে। অন্যথায় সরকার পরিবর্তন হলেও মানুষের প্রত্যাশা পূরণ না-ও হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটেনে যে কেবল নতুন একটি সরকার প্রয়োজন তাই নয়, বরং অনেক কিছুই নতুন করে শুরু করা দরকার। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট ১৯৩৩ থেকে ৩৮ সালের মধ্যে এরকম কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ছিল কৃষক, বেকার, তরুণ ও বয়োজেষ্ঠ শ্রেণির আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো। তবে বর্তমান ব্রিটেনের অবস্থা ৯ দশক আগের যুক্তরাষ্ট্রের মতো নয়। কনজারভেটিভ পার্টির একের পর এক দুর্বল নেতৃত্বই রাজনীতির ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা উঠিয়ে দিয়েছে। একথা বললে তা বাড়িয়ে বলা হবে না যে, লেবার পার্টি ক্ষমতায় এলে নতুন করে সব গড়ে তুলতে স্টারমারকে রীতিমতো বিপ্লব করতে হবে। এসব কিছু করার জন্য দরকার হবে অর্থের। সরকারি রাজস্ব আয়ের প্রধান উত্স কর। নতুন করে করের বোঝা না চাপিয়ে সমস্যা সমাধান করাই হবে লেবার দলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

ইত্তেফাক/এএইচপি