মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

রেমালের প্রভাবে কলকাতায় থেমে আছে ভোটের প্রচারণা

আপডেট : ২৭ মে ২০২৪, ১৬:০৪

রেমালের ফলে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় কলকাতায় রোববার কোনো প্রচার হয়নি। সোমবারও কার্যত হচ্ছে না। কলকাতায় ভোট ১ জুন। তার ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার বন্ধ হয়ে যাবে। তার আগে শেষ রোববার কোনো দলই প্রচার করতে পারেনি।

অবশ্য এই দুর্যোগের মধ্যে এখন সব প্রধান রাজনৈতিক দলই মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিতে চাইছে। কলকাতায় যেসব জায়গায় গাছ পড়েছে, সেখানে তৃণমূলের কর্মকর্তারা পুরসভার কর্মীদের নিয়ে দ্রুত তা কাটার ব্যবস্থা করার জন্য তৎপর হয়েছে।

ভিআইপি রোডে হলদিরামের কাছের একটি আবাসনের বাসিন্দা রোহিত জানিয়েছেন, ‘তাদের এলাকায় চারটি গাছ পড়ে গিয়েছিল। সকালেই তৃণমূলের ছেলেরা এসে দ্রুত তা কেটে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। রেমালের আঁচ তারা ভোটে পড়তে দিতে চায় না।’

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ সেলিম আগেই ঘোষণা করেছিলেন, তারা মানুষের পাশে থাকবেন। সিপিএমের প্রবীণ নেতা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দুর্গত এলাকায় চলে গেছেন। তিনি একটি স্কুল মানুষের থাকার জন্য খুলে দিয়েছেন। বাঁধের অবস্থা দেখেছেন। কান্তি বলেছেন, ‘এই সময় ভেদাভেদ ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী উপকূলের এলাকার মানুষের জন্য একটি হেলপলাইন খুলেছেন। উপকূলে ৫০ জন কংগ্রেস কর্মীকে পাঠিয়েছেন মানুষকে সাহায্য করার জন্য। কলকাতাতেও বাইকসহ কংগ্রেস কর্মীদের প্রস্তুত রেখেছেন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

মঙ্গলবার কলকাতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রোড শো আছে। সেই কর্মসূচি হবে কিনা, এনিয়ে সংশয় এখনো আছে। সোমবারও কলকাতায় বৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন জেলা থেকে রেমালের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির খবর আসছে।

বিজেপি নেতা সৌরভ শিকদার জানিয়েছেন, আবহাওয়ার দিকে তারা নজর রাখছেন। ফলে মোদির রোড শো নিয়েও একটা অনিশ্চয়তা আছে।

কলকাতার অবস্থা

রোববার কলকাতায় ঝড়ের দাপট ও প্রবল বৃষ্টি শুরু হয় রাত নয়টা থেকে। দশটা পর্যন্ত তীব্র বৃষ্টির সঙ্গে প্রবল ঝড় ছিল। রাস্তায় গাড়িও অনেক কম দেখা গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঝড় ও বৃষ্টির গতিও বেড়েছে। ভারতের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, কলকাতায় ঝড়ের বেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার।

কলকাতার আধুনিক উপনগরী সল্টলেকের প্রতিটি ব্লকেই অন্তত একটা করে পার্ক আছে। অনেকগুলি ব্লকে গাছ পড়েছে রোববার রাতে।  গাছ পড়েছে লেক টাউনেও। এমনকী কলকাতা পুরসভার অফিসের কাছেও গাছ পড়েছে।

কলকাতার ভিতরে রাস্তায় কোথাও গোড়ালি, কোথাও হাঁটুজল জমে। ক্যামাক স্ট্রিটের মতো এলাকায় হাঁটুজল। সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের সামনে পানি জমেছে। সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন। কিন্তু সকাল থেকে শহরতলির ট্রেন চলাচল বন্ধ। শিয়ালদহে সকাল ছয়টা থেকে ট্রেনের অপেক্ষায় মানুষ বসে ছিলেন। পার্ক স্ট্রিট মোট্রো লাইনে পানি ঢুকে যাওয়ায় মেট্রো বন্ধ ছিল।

সোমবার সকালেও কলকাতার আকাশে কালো মেঘ। ভোরের দিকে বৃষ্টি একটু কমেছিল। আটটা থেকে আবার শুরু হলো বৃষ্টি। খুব জোরে নয়। কিন্তু সমানে বৃষ্টি পড়ছে।

 

ইত্তেফাক/এসএটি