শিশুদের আঁকা চিত্রকর্ম নিয়ে তিন জেলায় 'দ্য ফ্রিডম ফান্ড'র প্রদর্শনী

আপডেট : ২৭ মে ২০২৪, ২২:৩৩

শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণ ও পাচারের বিপক্ষে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে, নারী যৌন কর্মী মায়েদের শিশুরা এবং বানিজ্যিক যৌন শোষণ, পাচারের ঝুঁকিতে থাকা ৬৫ জন শিশুদের আঁকা চিত্রকর্ম নিয়ে দ্য ফ্রিডম ফান্ড, ঢাকা, ফরিদপুর এবং রাজবাড়ী জেলায় তিনটি আলাদা আলাদা চিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করেছে। 

শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণ ও পাচারের বিপক্ষে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পথে বসবাসরত ও পাচারের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের অঙ্কিত চিত্রকর্ম নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্য ফ্রিডম ফান্ড চিত্র প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে ঢাকা, রাজবাড়ী ও ফরিদপুরের ৬৫ জন নারী যৌনকর্মী মায়েদের শিশুদের আঁকা ছবি স্থান পেয়েছে।

গত ১৬ই মে, ঢাকার ছায়ানট মিলনায়তনে শুরু হয়ে, এই চিত্র প্রদর্শনী, ২৬শে মে রাজবাড়ী এবং ২৭ই মে ফরিদপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে প্রদর্শনীর মাধ্যমে শেষ হয়।  

আয়োজনে, ঢাকা পর্যায়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এম.এম. মাহামুদুল্লাহ অতিরিক্ত পরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তর (ডিএসএস), ঢাকা, এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, খন্দকার মনিরুজ্জামান। সেক্রেটারি, কমিউনিটি ভিত্তিক শিশু সুরক্ষা কমিটি (সিবিসিসিসি)। এছাড়াও রাজবাড়ী জেলায়, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক, রাজবাড়ী, জনাব আবু কায়সার খান এবং ফরিদপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন, জেলা প্রশাসক জনাব মো কামরুল আহসান তালুকদার পিএএ। এছাড়াও সমাজের বিশিষ্ট গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ, শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, অধিকার কর্মী, শিক্ষার্থীরা সহ নানা স্তরের লোকজন।  

এই আয়োজনে, নারী যৌন কর্মী মায়েদের শিশুরা এবং বানিজ্যিক যৌন শোষণ, পাচারের ঝুঁকিতে থাকা ৬৫ জন ঢাকা, রাজবাড়ী এবং ফরিদপুরের শিশুরা এঁকেছে, তাদের কাছে স্বাধীনতা মানে কি। রাসেল নামে একজন শিশু ছবি এঁকে লিখেছেন, “স্বাধীনতা মানে সব সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তির অধিকার”। জান্নাতুল তার ছবিতে বলার চেষ্টা করেছেন,“স্বাধীনতা মানে পরিবারে নিরাপদে থাকা”। রোদেলা তার ছবির মাধ্যমে বলছেন, “স্বাধীনতা মানে যৌন হয়রানী থেকে মুক্তি পাওয়া।“ 

তাদের আঁকা এই ছবিগুলোর মাধ্যমে উঠে এসেছে, তারা সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের দ্বারা অবহেলার স্বীকার হচ্ছে। আয়োজকরা বলেছেন, শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষন ও পাচারের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই চিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। এছাড়াও শিশুদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তনও ছিল একটি বড় বিষয়।  

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক ফারজানা আফরোজ বলেন, ‘বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মের শিশুদের সুরক্ষায় সরকার  কাজ করছে। পথশিশু, যৌন নির্যাতনের শিকার শিশু, পাচারের শিকার ও ঝুকিতে থাকা শিশুদের শিক্ষা, আশ্রয় ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে। এই শিশুরা আমাদের সম্পদ এবং  তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের জন্য যেকোন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে সরকার আপনাদের পাশে আছে, থাকবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে।  

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান বলেন, “এই আয়োজনে আমন্ত্রণ পেয়ে আনন্দিত। তিনি বলেন, এমন আয়োজন যেন সবসময় অব্যহত থাকে।“ 

“এ প্রদর্শনী বা শিশুদের অংকিত চিত্রকর্মের মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি  বা একটি গোষ্ঠীর গল্প বলা হয়নি, তবে আমাদের চেষ্টা ছিল যে বোধের মধ্য দিয়ে শিশুরা গিয়েছেন, শিশুদের সেই অনুভূতি প্রকাশ করার” বলেন ট্রাশ বক্স লিমিটেডের ফাউন্ডার মিথুন দাস কাব্য। 

এক একটা ছবি যেন এক একটা গল্প বলে। কোন ছবি যেমন বলে আনন্দের গল্প, আবার কোন ছবির মাঝেই ফুটে ওঠে একরাশ বেদনা। প্রতিটা ছবি যেন এক একটা জীবনের প্রতিচ্ছবি। 

অনুষ্ঠানে আসা একজন দর্শনার্থী নীলয় দাস আদ্র বলেন, ছবি মূলত মনের প্রতিচ্ছবি।  শিশুদের মন ও মানসিকতা বিকাশিত এবং প্রস্ফুটিত করার জন্য তাদের কথা শুনতে হবে। শিশুদের এত সুন্দর হৃদয়ের কথা দাবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে পারে বাস্তবে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না।

ইত্তেফাক/এএইচপি