সাত ভাই বা সাত ভায়লা, ইংরেজিতে বিপরীত সেভেন সিস্টার (সাত বোন) নামে পরিচিত। বৈজ্ঞানিক নাম Turdoides striatus । বাংলাদেশের স্থানীয় পাখি হলেও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও দেখা যায়। বাড়ির আশেপাশে, ঝোপেঝাড়ে ৫ থেকে ১৫টি পর্যন্ত পাখি দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়ায়। অনেক সময় ৭টি পাখি একসঙ্গে দেখা যায় বলেই ওদের নাম ‘সাত ভাই’ হয়েছে। সামাজিক পাখিটি ভাওয়াল ও মধুপুর বনে চোখে পড়ে বেশি। বনের সরুপথে চলার সময় মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘাবড়ে গিয়ে চেঁচামেচি, ক্যাঁচম্যাচ শুরু করে দেয়। আবার কিছু সময় একদম চুপচাপ থাকে। বন্যপ্রাণী কিংবা সাপের খোঁজ পেলেও ভয় পেয়ে বিভিন্ন রকম শব্দ করে। পাখিটি শান্ত স্বভাবের হলেও দলবদ্ধ থাকে বলেই শিকারি পাখিরা এদের উপর আক্রমণ করার সাহস পায় না। তবে কেউ আক্রমণ করলে দলের সবাই জবাব দেয়।
স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম। লম্বায় ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। গায়ের পালক ছাই ও খয়েরি রঙে মিশ্রিত। ঠোঁট পা এবং তলপেট হলুদাভ। চওড়া লেজের লম্বা একগুচ্ছ পালক ফুলিয়ে ফুলিয়ে নাচায় আর বিভিন্ন রকম অঙ্গভঙ্গি করে। ঠোঁট ও পা দিয়ে খুঁচিয়ে পাতার নিচে মাটি থেকে খাবার সংগ্রহ করে। কীটপতঙ্গ, কেঁচো, শস্যদানা ছাড়াও বিভিন্ন ফল ও ফুলের মধু খায়। শীত মৌসুমে খেজুরের রস খেতেও পছন্দ করে। বর্ষা মৌসুমে স্ত্রী-পুরুষ মিলে সুন্দর বাটির মতো বাসা বাঁধে। স্ত্রী তিন থেকে চারটি নীল রঙের ডিম পাড়ে। কিন্তু সবাই মিলে ডিমে তা দেয় এবং বাচ্চার যত্ন নেয়। গ্রাম বাংলায় ভোরে এদের ডাকে ঘুম ভাঙে। বর্তমানে বনাঞ্চল নিধন, জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে চিরচেনা ‘সাত ভাই’ পাখিটি বিলুপ্তির পথে।
